
খুলনার রূপসায় এক দুর্ধর্ষ হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ৩নং নৈহাটি ইউনিয়নের রহিমনগর গ্রামে এই সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রূপসা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপসা থানা পুলিশের এসআই আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল রহিমনগর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের লক্ষ্য ছিল গত বছরের নভেম্বর মাসে দায়ের করা একটি হত্যা মামলার (মামলা নং-০৯, তারিখ-০৭/১১/২০২৫) এজাহারভুক্ত আসামি জহির শেখকে গ্রেপ্তার করা। পুলিশ জহির শেখের অবস্থান নিশ্চিত করে তার বাড়িতে অভিযান চালালে সে পালানোর চেষ্টা করে, তবে ক্ষিপ্রতার সাথে পুলিশ তাকে নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়।
তবে বিপত্তি ঘটে জহির শেখকে থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির সময়। গ্রেপ্তার হওয়া মাত্রই জহির চিৎকার শুরু করলে তার স্বজন ও স্থানীয় সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে একটি ‘মব’ বা বেআইনি জনতা সৃষ্টি করে। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ৫০-৬০ জন লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং জহিরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এই অতর্কিত হামলায় এসআই আশরাফুল আলমসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দান এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার এই গুরুতর ঘটনায় রূপসা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পেনাল কোডের ১৪৩, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩ ও ১৮৬ সহ বিভিন্ন ধারায় দায়েরকৃত এই মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ১২ জনই রূপসা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অপরাধী যেই হোক, আইনের হাত থেকে পালানোর কোনো সুযোগ নেই। এই হামলার ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে বর্তমানে পুলিশের বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।