
দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের ঘোষগাতী কেবল ঘাট এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন থেকে চার দিন আগে ট্রলি চালক শামীম (২৮) ও মোটরসাইকেল চালক সজীব (২৬)-এর মধ্যে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কথা কাটাকাটি হয়। সামান্য বিষয় নিয়ে শুরু হওয়া তর্ক একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। সেদিন স্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করলেও দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবারও দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে ঘোষগাতী গ্রামের গনি গাজীর ছেলে শামীম, মহেশ্বরপুর গ্রামের মান্নান শেখের ছেলে সজীব এবং ঘোষগাতী গ্রামের মৃত সালাহউদ্দিনের ছেলে নাসির (৪৫) গুরুতর জখম হন।
আহতদের প্রথমে স্থানীয়ভাবে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাত রয়েছে এবং তারা বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
ঘটনার বিষয়ে দিঘলিয়া থানার এসআই লিটন মন্ডল জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এলাকায় নতুন করে যাতে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেজন্য পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।