
বরগুনার পাথরঘাটায় বন্যপ্রাণী নিধনের এক নজিরবিহীন ঘটনায় অপরাধী স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তার স্ত্রী। গত ৩ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাঁড়িটানা গ্রামের বাসিন্দা মো. হানিফকে তালাকের আইনি নোটিশ পাঠান তার স্ত্রী শাহীনুর বেগম। এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার রাতে, যখন বন বিভাগের এক বিশেষ অভিযানে দুটি জবাই করা হরিণসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হন হানিফ। দীর্ঘদিন ধরে পাথরঘাটা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাসকারী হানিফ সাগরে মাছ ধরার আড়ালে নিষিদ্ধ হরিণ শিকারে জড়িয়ে পড়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি এই অবৈধ পথ পরিহার না করায় শেষ পর্যন্ত ক্ষুব্ধ স্ত্রী শাহীনুর বেগম সামাজিকভাবে লজ্জিত হয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা খাল এলাকায় বন রক্ষীরা ঝটিকা অভিযান চালিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার থেকে দুটি হরিণ ও ৯টি বিশেষ ফাঁদসহ হানিফকে আটক করে। পরবর্তীতে তাকে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. পনির শেখ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে হানিফকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক মাস কারাবরণ করতে হবে বলে আদালতের রায়ে জানানো হয়। আদালতের নির্দেশনায় জব্দকৃত হরিণের চামড়া ও শিং সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে মাংস কেরোসিন মিশিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
এই ঘটনায় সামাজিকভাবে সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন শাহীনুর বেগমের পরিবার। বিশেষ করে শাহীনুরের ছোট ভাই জহিরুল ইসলাম, যিনি নিজে বন বিভাগের পাথরঘাটা সদর বিট কার্যালয়ে মালির কাজ করেন, তিনি জানান যে ভগ্নিপতির এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে কর্মক্ষেত্রে তাকে চরম লজ্জার মুখে পড়তে হচ্ছিল। শাহীনুর বেগম সংবাদমাধ্যমকে জানান, স্বামীর এই অন্ধকার জগতের সাথে সম্পৃক্ততা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না এবং বন্যপ্রাণী রক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাথরঘাটার এই ঘটনাটি একদিকে যেমন অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং নৈতিক অবস্থানের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।