
খুলনা মহানগরীর ভোজনরসিকদের প্রিয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্তোরাঁকে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে বড় অংকের জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোনাডাঙ্গা থানাধীন কেডিএ এভিনিউ এলাকায় অবস্থিত এই জনপ্রিয় খাবারের আউটলেটটিতে গ্রাহকদের যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রশাসনের এই আকস্মিক অভিযানে রেস্তোরাঁটির অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণামূলক আচরণের বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ে, যা স্থানীয় সচেতন মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রেস্তোরাঁটি নির্ধারিত মান ও পরিমাণ বজায় না রেখে ক্রেতাদের খাবার সরবরাহ করে আসছিল। অনেক ক্ষেত্রে প্রদর্শিত মেন্যু বা বিজ্ঞাপনের বিপরীতে খাবারের পরিমাণে ঘাটতি এবং গুণগত মান বজায় না রাখার প্রমাণ পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। গ্রাহক সন্তুষ্টির দোহাই দিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালালেও তলে তলে সাধারণ মানুষকে ঠকানোর এমন কর্মকাণ্ডকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রতিষ্ঠানটিকে এই বড় অংকের জরিমানা পরিশোধের আদেশ দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কেবল জরিমানাই শেষ কথা নয়; ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ আরও কঠোরতর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনোভাবেই খাবারের মান নিয়ে আপস কিংবা সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকায় প্রতারণা বরদাশত করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
খুলনা মহানগরীর সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শহরবাসী। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে মহানগরীর প্রতিটি এলাকায় এ ধরনের তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। মূলত ব্যবসায়ীদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ ক্রেতারা যাতে তাদের প্রাপ্য সেবা ও সঠিক মানের খাবার পান, সেটি নিশ্চিত করাই এই নিয়মিত অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।