
আসন্ন বাংলাদেশ সফরকে সামনে রেখে বড় চমক দিয়ে সাদা বলের দল ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি)। এবারের সফরে কিউই শিবিরে স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে তিন মূল পেসার—ম্যাট ফিশার, উইল ও’রুর্ক এবং ব্লেয়ার টিকনারের প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে এই তিন ফাস্ট বোলার আবারও জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। পিঠের চোট কাটিয়ে ও’রুর্ক ওয়ানডে দলে ফিরেছেন এবং পায়ের হাড়ের ইনজুরি সারিয়ে টি-টোয়েন্টি দলে যুক্ত হয়েছেন ফিশার। অন্যদিকে, গোড়ালির আঘাত জয় করে ব্লেয়ার টিকনার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি উভয় সংস্করণেই নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন। অভিজ্ঞ এই বোলারদের ফিরে পাওয়াকে দলের বোলিং গভীরতা বৃদ্ধির বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন কিউই প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার। তিনি জানান, আধুনিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচিতে এই মানের খেলোয়াড়দের ফিট হয়ে ফেরা দলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক।
অভিজ্ঞদের ফেরার পাশাপাশি এই সফরে তারুণ্যের মিশেলও চোখে পড়ার মতো। আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে ব্যস্ত থাকায় নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারকে এই সিরিজে পাচ্ছে না নিউজিল্যান্ড। তার অনুপস্থিতিতে অভিজ্ঞ টম ল্যাথামের কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে দলের নেতৃত্ব। দলে বড় চমক হিসেবে প্রায় দুই বছর পর ডাক পেয়েছেন অফ স্পিন অলরাউন্ডার ডিন ফক্সক্রফট, যিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন। এছাড়া শ্রীলঙ্কায় নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে আলো ছড়ানো মোহাম্মদ আব্বাস, আদিত্য অশোক ও বেন সিয়ার্সরা বাংলাদেশের কন্ডিশনে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ নজর থাকবে ক্রিস্টিয়ান ক্লার্কের ওপর, যিনি গত জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার মতো মহারথীদের উইকেট নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন।
বাংলাদেশ সফরের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দল দুটিতেই তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে। ওয়ানডে দলে টম ল্যাথামের নেতৃত্বে থাকছেন হেনরি নিকোলস, উইল ইয়াং, জশ ক্লার্কসন এবং ডেন ক্লিভারের মতো পরীক্ষিত ক্রিকেটাররা। অন্যদিকে কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে ম্যাট ফিশার ও ইশ সোধির সঙ্গে দেখা যাবে টিম রবিনসন ও বেভন জ্যাকবসের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের। আগামী ১৩ এপ্রিল কিউই বাহিনী বাংলাদেশে পা রাখবে, যেখানে তারা স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পূর্ণাঙ্গ সিরিজে মুখোমুখি হবে। কিউইদের এই শক্তিশালী দল গঠন বলে দিচ্ছে, বাংলার স্পিন সহায়ক উইকেটেও তারা পেস ও তারুণ্যের শক্তিতে চ্যালেঞ্জ জানাতে পূর্ণ প্রস্তুত।