
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া নূরবাগ স্বাধীনতা চত্বরে চোর সন্দেহে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ফারুক হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে জনাকীর্ণ এলাকায় এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত ফারুক হোসেন উপজেলার ব্যালোকাঠি গড়ভাঙা গ্রামের আনছার উদ্দিনের ছেলে। ইজিবাইক চুরির চেষ্টার অভিযোগে তাকে আটক করে উন্মত্ত জনতা বেধড়ক মারধর শুরু করলে তিনি গুরুতর জখম হন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলেও কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে উঠে এসেছে ফারুক হোসেনের ব্যক্তিগত জীবনের করুণ আখ্যান। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, ফারুক এক সময় দেশের গৌরবময় নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু মানসিক ভারসাম্য হারানোর ফলে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকা ফারুক এর আগেও চুরির অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছিলেন। তবে মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি উপেক্ষা করেই নূরবাগ এলাকায় তার ওপর যে ভয়াবহ সহিংসতা চালানো হয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে অভয়নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জানিয়েছেন, পুলিশ গুরুত্বের সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এই গণপিটুনির সাথে সরাসরি জড়িত ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো এমন অপরাধমূলক কাজের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
দিনের আলোতে প্রকাশ্যে এমন নির্মম গণপিটুনির ঘটনা নওয়াপাড়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের মতে, অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করাই ছিল নাগরিক দায়িত্ব, কিন্তু পিটিয়ে হত্যার মতো সহিংস পথ বেছে নেওয়া সামাজিক অবক্ষয়েরই নামান্তর। ফারুকের এই মৃত্যু আবারও প্রমাণ করলো যে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও গণউন্মাদনা কতটা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।