
গ্রামীণ জনপদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ এবং সরকারের নানামুখী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার (১৩ মে) দিঘলিয়া উপজেলার অন্তর্গত ৬টি ইউনিয়নের কর্মরত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই গুরুত্বপূর্ণ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গ্রাম পুলিশদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনসেবামূলক কাজের গতি বাড়াতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুজন দাশ গুপ্ত।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে নাগরিক অধিকার ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রতিটি নাগরিকের রাষ্ট্রীয় ও মৌলিক অধিকার। গ্রামীণ জনপদে প্রতিটি পরিবারে নতুন শিশুর জন্ম বা কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর পরই যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনানুযায়ী নিবন্ধন সম্পন্ন নিশ্চিত হয়, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সবচেয়ে অগ্রণী ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রতিটি শিশুকে বাধ্যতামূলকভাবে হামের টিকা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। সরকারের এই বৃহৎ টিকাদান কর্মসূচি শতভাগ সফল করতে গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ অভিভাবকদের সচেতন করা এবং তাঁদের কেন্দ্রে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে গ্রাম পুলিশদের জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সভায় সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ আলোচনা করা হয়। ইউএনও সুজন দাশ গুপ্ত বলেন, মোটরসাইকেল আরোহীদের শতভাগ হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চালকদের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরযানের হালনাগাদ রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র সাথে রাখার বিষয়ে গ্রামীণ সড়কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তিনি গ্রাম পুলিশদের কাজ করার আহ্বান জানান। আইন মেনে গাড়ি চালানোর মাধ্যমে কীভাবে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার ওপর সভায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
একই সাথে গ্রামীণ সমাজের সবচেয়ে বড় সামাজিক ব্যাধি জুয়া, মাদক এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গ্রাম পুলিশদের আরও কঠোর ও তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধান অতিথি। তিনি সমাজ থেকে এসব অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কেবল প্রশাসনের একার পক্ষে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব নয়; এর জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাধারণ জনগণ এবং গ্রাম পুলিশদের সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিন্দুমাত্র অপরাধের তথ্য পেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে অবহিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ৬টি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা প্রশাসনের এই দিকনির্দেশনাকে সাধুবাদ জানান এবং সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমুখী ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন। তৃণমূল পর্যায়ে আইন শৃঙ্খলার দেখভাল এবং সরকারের নানামুখী জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গ্রাম পুলিশদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সমাপনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমাজের অবহেলিত মানুষের কল্যাণে সবাইকে সর্বোচ্চ সততা, পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও গভীর দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।