
খুলনা জেলা ছাত্রদলের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের সাংগঠনিক রদবদল ও নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে খুলনা জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে তাঁর পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল ও স্থবিরতা মুক্ত রাখতে কমিটির বর্তমান সিনিয়র নেতাদের মধ্য থেকে মো. আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেছে সংগঠনের হাইকমান্ড। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতির মাধ্যমে এই কঠোর ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়, যা তৃণমূলের রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, খুলনা জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের পর থেকেই বিদায়ী আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অমান্য করা, স্থানীয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করা এবং দলীয় নীতিমালার বাইরে গিয়ে খামখেয়ালি আচরণ করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠছিল। এসব বিষয় নিয়ে জেলা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কঠোর নজরে আসে। পরবর্তীতে দলের সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তৃণমূলের চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার স্বার্থেই ফিরোজ আহমেদকে শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত খুলনা ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা যে, দলের শৃঙ্খলার প্রশ্নে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে আকস্মিকভাবে খুলনা জেলা ছাত্রদলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের ব্যাটন হাতে পাওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আবু জাফর। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের নির্দেশে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাঁর ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তা তিনি নিজের সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও শ্রম দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করবেন। অতীতের সব ভেদাভেদ ও মান-অভিমান ভুলে খুলনা জেলা ছাত্রদলকে একটি সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও গতিশীল ছাত্রসংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে জেলার প্রতিটি থানা ও ইউনিয়নের ত্যাগী ও রাজপথের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
হঠাৎ করে আসা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে খুলনার স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন এবং ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ ও ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। সাধারণ কর্মীদের বড় একটি অংশ কেন্দ্রের এই কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জেলা ছাত্রদলের রাজনীতিতে যে একঘেয়েমি ও অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং দানা বেঁধে উঠেছিল, এই নেতৃত্বের পরিবর্তনের মাধ্যমে তাতে ইতি ঘটবে। নতুন ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের হাত ধরে খুলনা জেলা ছাত্রদলের সামগ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রমে আবার নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হবে এবং আগামী দিনের স্বৈরাচার বিরোধী যেকোনো রাজপথের আন্দোলনে এই ইউনিটটি খুলনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির মাঠপর্যায়ের কর্মীরা।