
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার আলোচিত ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত দুই শিশুর সৎপিতা ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত দুই শিশুর বাবা মাসুম বেপারী রবিবার (৩১ মে) সকালে সোনাডাঙ্গা থানায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় তার প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম মেরিকে সাক্ষী করা হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় চার বছর আগে তার সঙ্গে ফাতেমা বেগম মেরির বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে মেরি রফিকুল ইসলাম হাওলাদারকে বিয়ে করেন। তবে মেরির মা বেবি বেগম এ বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে রফিকুলের সঙ্গে বেবি বেগমের প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো এবং তিনি রফিকুলকে বাসায় আসতে নিষেধ করতেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, এই বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে রফিকুল ইসলাম হাওলাদার তার শাশুড়ি বেবি বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেন এবং দুই শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ বিকৃত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৯ মে রাত ১টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় রফিকুল ইসলাম হাওলাদার এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যান।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার দারুল আমান মহল্লার একটি ভাড়া বাসা থেকে বেবি বেগম (৬৫) এবং তার দুই নাতি শামীম বেপারী ও সিয়াম বেপারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত দুই শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।