
মো: আল-মাহফুজ শাওন
ফেসবুকে নীল টিক বা ভেরিফায়েড ব্যাজ এতদিন মূলত পরিচিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা অর্থের বিনিময়ে ‘মেটা ভেরিফায়েড’ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেই দেখা যেত। তবে এবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও বিনামূল্যে পরিচয় যাচাইয়ের নতুন সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা।
নতুন এই সুবিধার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ (Facebook Verified)। মেটার দাবি, এর মাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্টের পেছনে একজন বাস্তব মানুষ রয়েছেন কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।
কীভাবে কাজ করবে ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’?
নতুন এই ভেরিফিকেশন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীকে একটি ছোট ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে। এরপর মেটা সেই ভিডিওটি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে থাকা প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পরিচয় যাচাই সফল হলে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে ভেরিফায়েড ব্যাজ যুক্ত হবে। এই ব্যাজ প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, বিভিন্ন গ্রুপ ও ফেসবুক ডেটিংসহ প্ল্যাটফর্মের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যেতে পারে। ভবিষ্যতে নিউজ ফিডেও এই ব্যাজ প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
কারা পাবেন এই ব্যাজ?
‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ সুবিধা পেতে ব্যবহারকারীদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
– ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে;
– অ্যাকাউন্টটি ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলতে হবে;
– প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের ইতিহাস থাকা যাবে না;
– পরিচয় যাচাই সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ ও ‘মেটা ভেরিফায়েড’-এর পার্থক্য
নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ এবং প্রচলিত ‘মেটা ভেরিফায়েড’ একই সেবা নয়। ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যের একটি পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা। এতে মূলত ব্যবহারকারী একজন বাস্তব ব্যক্তি—এটি নিশ্চিত করার বিষয়টিই গুরুত্ব পাবে।
অন্যদিকে ‘মেটা ভেরিফায়েড’ একটি মাসিক সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা। এতে ভেরিফায়েড ব্যাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত গ্রাহক সহায়তা, পরিচয় চুরি থেকে সুরক্ষা এবং বিভিন্ন প্রিমিয়াম সুবিধা পাওয়া যায়।
কেন এই উদ্যোগ?
মেটার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বর্তমানে খুব সহজেই ভুয়া ছবি, নকল পরিচয় এবং বিশ্বাসযোগ্য দেখতে প্রোফাইল তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এসব ব্যবহার করে অনলাইনে প্রতারণা ও জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন ভেরিফিকেশন ব্যাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অন্তত বুঝতে পারবেন, তারা যার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তিনি একজন বাস্তব ব্যক্তি কি না।
তবে মেটা স্পষ্ট করেছে, ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ ব্যাজ কোনো ব্যক্তির সততা, চরিত্র বা সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। এটি কেবল পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ।
মেটা জানিয়েছে, নতুন এই ফিচারটি ধাপে ধাপে চালু করা হবে। শুরুতে নির্বাচিত কয়েকটি দেশে এটি চালু হলেও পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও সম্প্রসারণ করা হবে। তবে কোন কোন দেশে প্রথমে এই সুবিধা চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের প্রসারের সঙ্গে অনলাইনে ভুয়া পরিচয়ের ঝুঁকি বাড়ায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যে পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ভেরিফায়েড ব্যাজ থাকলেও অনলাইনে লেনদেন, ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার বা অপরিচিত কারও সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকা জরুরি।