
আল -মাহফুজ শাওন
খুলনা ওয়াসার মেগা প্রকল্প ‘পানি সরবরাহ প্রকল্প-২’-এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ ফিরোজ শাহকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের এই প্রকল্পে নতুন করে গতি ফেরার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা মহানগরীর দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসন, নিরাপদ ও মানসম্মত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। তবে প্রকল্প গ্রহণের পর প্রায় সাত মাস অতিবাহিত হলেও প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না থাকায় এর বাস্তবায়ন কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছিল না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটির সার্বিক বাস্তবায়ন, পরিকল্পনা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে প্রকল্প পরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মোঃ ফিরোজ শাহকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রকল্পের প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রমে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ‘পানি সরবরাহ প্রকল্প-২’ খুলনা ওয়াসার অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প। এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মাধ্যমে নগরবাসীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক ও টেকসই পানি সরবরাহ অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্যাকেজের কাজ, দরপত্র প্রক্রিয়া, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন কার্যক্রম তদারকি করা প্রয়োজন। নতুন প্রকল্প পরিচালক দায়িত্ব গ্রহণের ফলে এসব কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
খুলনা নগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও পানির চাহিদার প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নগরবাসী। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পের বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি, সময়ানুবর্তিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে খুলনা নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন প্রকল্প পরিচালক হিসেবে এমডি মোঃ ফিরোজ শাহ দায়িত্ব নেওয়ায় এখন প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিই সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।