1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. khulnarprotichchobi@gmail.com : khulnarprotichchob :
  3. shobuj.khulna@gmail.com : al masum Shobuj : al masum Shobuj
দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকা কি বিপদ ডেকে আনছে? জেনে নিন সুস্থ থাকার কার্যকর কৌশল - khulnarprotichchobi
২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| রবিবার| সন্ধ্যা ৬:৩২|
শিরোনামঃ
কলেজ শিক্ষার্থীর তৈরি গো-কার্ট চালিয়ে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী মেধাভিত্তিক ও দক্ষ জনপ্রশাসন গড়তে বিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: প্রধানমন্ত্রী ঐতিহ্য ও গৌরবের ১৪৫ বছরে খুলনা খুলনায় প্রথম ভেলা বাইচ: নদী বাঁচাতে ভিন্ন উদ্যোগ দিঘলিয়ায় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উপজেলা ফাইনাল অনুষ্ঠিত ডুমুরিয়ায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন: জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন উদ্যোগ দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকা কি বিপদ ডেকে আনছে? জেনে নিন সুস্থ থাকার কার্যকর কৌশল বড় বিপদের আগাম সতর্কবার্তা ‘মিনি-স্ট্রোক’: জীবন বাঁচাতে চিনুন জরুরি লক্ষণগুলো ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ফেসবুক সুরক্ষা: হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি এড়াতে যা জানা জরুরি বাতাসের চেয়েও হালকা: বিজ্ঞানের বিস্ময় ‘গ্রাফিন অ্যারোজেল’ ও আগামীর পৃথিবী

দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকা কি বিপদ ডেকে আনছে? জেনে নিন সুস্থ থাকার কার্যকর কৌশল

এস, এম আরাফাত আলী
  • Update Time : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
Spread the love

 

বৈশাখের এই তীব্র দাবদাহে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন এক চিলতে স্বস্তির খোঁজে আমরা শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। ঘর কিংবা অফিস—দিনের সিংহভাগ সময় এসির কৃত্রিম ঠান্ডায় কাটানো এখন অনেকের কাছেই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই আরামদায়ক পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে আমাদের অজান্তেই শরীরের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে এসির বাতাস ঘরের স্বাভাবিক আর্দ্রতা দ্রুত কমিয়ে দেয়, যা সরাসরি আমাদের ফুসফুস, ত্বক এবং সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। আদর্শ পরিবেশে বাতাসের আর্দ্রতা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ থাকা প্রয়োজন হলেও এসি চললে তা নিমেষেই ২০ শতাংশে নেমে আসে, যা স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।

এই অতি শুষ্ক বাতাস আমাদের নাসারন্ধ্রের ভেতরের সংবেদনশীল মিউকাস স্তরকে শুকিয়ে দেয়। ফলে শরীরের স্বাভাবিক ফিল্টার ব্যবস্থা বা ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধের ক্ষমতা ব্যাহত হয়। এর সরাসরি প্রভাবে অ্যালার্জি, অনবরত হাঁচি-কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অনেক সময় ‘সামার কোল্ড’ বলা হয়। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই সাইনাস বা অ্যাজমার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই শুষ্ক পরিবেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এছাড়া দীর্ঘদিন এসির ফিল্টার পরিষ্কার না করলে তাতে জমে থাকা ধুলাবালি এবং ক্ষতিকারক ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া যন্ত্রটি চালু করার সাথে সাথেই ঘরের বাতাসে মিশে যায়, যা ফুসফুসের সংক্রমণের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এসি ব্যবহারের এই নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাঁচতে সচেতনতা এবং কিছু আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। ঘরের ভেতরে জলীয় বাষ্পের ভারসাম্য বজায় রাখতে ‘হিউমিডিফায়ার’ নামক যন্ত্রটি বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এটি শ্বাসযন্ত্রকে শুষ্ক হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে, যা বিশেষ করে হাঁপানি বা সিওপিডি রোগীদের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি এসির কার্যকারিতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অন্তত মাসে একবার সার্ভিসিং এবং নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বাতাসের মান উন্নয়ন এবং অক্সিজেনের সঠিক মাত্রা বজায় রাখতে যন্ত্রপাতির পাশাপাশি প্রাকৃতিক সমাধানের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরের পরিবেশ সজীব রাখতে ইনডোর প্ল্যান্ট বা ইনডোর উদ্ভিদের বিকল্প নেই। স্নেক প্ল্যান্ট, এরিকা পাম কিংবা পিস লিলির মতো গাছগুলো এসির কৃত্রিম পরিবেশের মাঝেও বাতাসের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ক্ষতিকারক টক্সিন শুষে নিতে সক্ষম। এই সবুজ বন্ধুগুলো ঘরের কোণে সাজিয়ে রাখলে তা কেবল সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং বাতাসের গুণগত মান উন্নত করে আমাদের শ্বাসক্রিয়াকে সহজতর করে। মনে রাখতে হবে, প্রচণ্ড গরমে এসি হয়তো অপরিহার্য, কিন্তু যথাযথ নিয়ম মেনে এবং ঘরের আর্দ্রতা বজায় রেখে এটি ব্যবহার করলে আধুনিক জীবনের এই আরাম বিষাদে পরিণত হবে না। সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমেই সম্ভব এসির কৃত্রিম ঠান্ডার মাঝেও শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025