
রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্যেই প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিয়াম ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ভবন শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক নেতৃত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিয়াম ফাউন্ডেশন প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। নতুন এই উদ্যোগ প্রশাসনিক সক্ষমতা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
তিনি বলেন, আধুনিক প্রশাসনে শুধু নিয়ম জানা যথেষ্ট নয়; প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে সরকার প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ফলাফলমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ—তাদের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই জনপ্রশাসনের মূল দায়িত্ব। জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, সরকারি নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিতে মেধা, সততা ও দক্ষতাকে প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কার, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
বিশ্বের প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে টিকে থাকতে জনপ্রশাসনকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে সব সরকারি সেবা ডিজিটাল মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নারী ও যুবসমাজকে এগিয়ে নিতে হবে এবং পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
শেষে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। তাঁদের সততা, পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নেবে।