
আল মাসুম সবুজ
সাংবাদ ও সাংস্কৃতিক কর্মী
আজ ২৫ এপ্রিল—ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের জেলা খুলনার জন্মদিন। ১৮৮২ সালের এই দিনে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী খুলনা জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সেই হিসেবে আজ ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদ।
বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম জেলা খুলনা, যা একদিকে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার, অন্যদিকে শিল্প, বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের অনন্য সমন্বয়স্থল। দিনটি উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করছে ‘খুলনা দিবস’।
ইতিহাস ও নামকরণের প্রেক্ষাপট
খুলনা নামের উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে একাধিক মত। কেউ বলেন ‘খুলনেশ্বরী মন্দির’ থেকে নামটি এসেছে, আবার কারও মতে ব্রিটিশ আমলের ‘Culnea’ শব্দ থেকেই ‘খুলনা’ নামের উদ্ভব। এ বিষয়ে এখনো গবেষণা চলমান।
ঐতিহাসিকভাবে খুলনা প্রথমে যশোর জেলার অংশ ছিল। পরবর্তীতে ১৮৪২ সালে মহকুমা হিসেবে যাত্রা শুরু করে এবং ১৮৮২ সালের ২৫ এপ্রিল জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
খুলনা কেবল একটি প্রশাসনিক অঞ্চল নয়, এটি বহু খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের জন্মভূমি। এ জেলার গুণীজনদের মধ্যে রয়েছেন— খানজাহান আলী, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার, মৃণালিনী দেবী, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, তানভীর মোকাম্মেল সহ অসংখ্য গুণী ব্যক্তি এছাড়া ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নানা স্মৃতিতে সমৃদ্ধ এই জনপদ।
দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে যশোর ও নড়াইল, পূর্বে বাগেরহাট এবং পশ্চিমে সাতক্ষীরা—এই সীমানা ঘেরা খুলনা নদীমাতৃক একটি অঞ্চল। রূপসা, ভৈরব, পশুর, কপোতাক্ষসহ অসংখ্য নদ-নদী এ জেলার জীবন ও অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
দর্শনীয় স্থান ও সম্ভাবনা
সুন্দরবন ছাড়াও খুলনায় রয়েছে রূপসা সেতু, খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর, গল্লামারী বধ্যভূমি, দক্ষিণ ডিহিতে রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়িসহ নানা দর্শনীয় স্থান। পর্যটন, শিল্পায়ন ও নদীভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনায় খুলনা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তথ্যসুত্র : অনলাইন