
সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। (বুধবার) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে ১২ দফা নির্দেশনা সংবলিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১ নং আইন) এর ধারা ১৩ অনুযায়ী প্রণীত “সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নির্দেশিকা, ২০২৩” (এস.আর.ও নং-১৬৫-আইন/২০২৩, তারিখ: ২৩ মে ২০২৩) এর আলোকে কার্যকর করা হয়েছে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযানকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়াতের অনুমতি দিতে পারবে না।
পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল থেকে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি টিকিটে থাকবে Travel Pass ও QR Code, যা ছাড়া টিকিটটি নকল হিসেবে গণ্য হবে।
🏝️ ভ্রমণ সময়সূচি ও সীমাবদ্ধতা
🔸 নভেম্বর মাসে শুধুমাত্র দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে, রাত্রিযাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
🔸 ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে।
🔸 ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।
🔸 প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন না।
🌿 প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা
সেন্টমার্টিনের নাজুক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে—
রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি নিষিদ্ধ।
কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রি নিষিদ্ধ।
সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ সব জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
সৈকতে মোটরসাইকেল, সীবাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
🚯 প্লাস্টিক ও একবার ব্যবহার্য সামগ্রীর নিষেধাজ্ঞা
সেন্টমার্টিন দ্বীপে নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না।
এছাড়া একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক সামগ্রী—
যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান বা শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকার আশা করছে, এই নির্দেশনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকবে, এবং দ্বীপটি দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।
উল্লেখ্য, সেন্টমার্টিনে পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ বাস্তবায়ন বিষয়ে একটি সভা গতকাল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।