
শীতের আমেজ শুরু হতেই খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন বিল, খাল ও জলাশয়ে ইতোমধ্যে নানা প্রজাতির অতিথি বা পরিযায়ী পাখির আগমন শুরু হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে হিমালয়ের পাদদেশ, রাশিয়া এবং সাইবেরিয়া থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসব পাখি বাংলাদেশের উষ্ণ জলবায়ুতে আশ্রয় নেয়।
পাখিবিদদের তথ্যমতে, বাংলাদেশে মোট পাখির প্রজাতি প্রায় ৬২৮টির মতো। এর মধ্যে ২৪৪টি প্রজাতির পাখি স্থায়ীভাবে বাস করে না; এদেরকেই অতিথি বা পরিযায়ী পাখি বলা হয়। নভেম্বর থেকে এদের আগমন শুরু হলেও, মার্চ-এপ্রিলের দিকে নিজ দেশে বরফ গলতে শুরু করলে তারা ফিরে যায়।
কিন্তু প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্যের পাশাপাশি বাড়ছে অমানবিকতা। ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বিল—বামুন্দিয়া, শোভনা, মাদারতলা, বারইকাটি, চেচুড়ী, কাটেঙ্গা এবং আশপাশের বাজারগুলোতে পেশাদার শিকারিরা বিভিন্ন কৌশলে অতিথি পাখি শিকারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কোথাও জালের ফাঁদ, কোথাও বিষটোপ, আবার কোথাও ভ্যাপের সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে কিংবা বড়শি ব্যবহার করে নির্বিচারে পাখি নিধন চলছে।
স্থানীয় বাজারগুলোতেও কৌশলে এসব পাখি বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের দৃশ্যমান উদ্যোগের অভাবে শিকারিরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ডুমুরিয়ার বিলে যে সব পাখির সমাগম দেখা যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে—কালকুচ, বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস, হাঁসডিঙ্গি, ভুদর, কাদাখোঁচা, চেপা, কাচিচোরা, মদনটাক, শামুখখোলা, পানকৌড়ি, বকসহ নানা জলচর পাখি।
এদিকে পাখি নিধন বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মাদ আল আমিন বলেন,
“বিভিন্ন বিলে পাখি শিকারের খবর পেয়েছি। অতিথি পাখি নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। যারা এ কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”