
নারীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে— অপমানজনক মন্তব্য, অবাঞ্ছিত বার্তা, ভুয়া আইডি তৈরি, ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও অনুমতি ছাড়া প্রকাশসহ নানাভাবে নারীরা অনলাইন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য নারীদের জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।
শনিবার সন্ধ্যায় ‘১৬ দিনব্যাপী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ–২০২৫’ উপলক্ষে আশ্বাস প্রকল্পের আওতায় উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তর আয়োজিত মোমবাতি প্রজ্বলন, আলোচনা সভা, শপথ বাক্য পাঠ ও পটগান প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন—
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইটি) নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছা, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ম্যাজিস্ট্রেট) কৌশিক আহম্মেদ, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুরাইয়া সিদ্দীকা, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ, নারী নেত্রী শামিমা সুলতানা শিলু, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাড. মমিনুল ইসলাম, অশোক কুমার সাহা, রূপান্তরের এইচআর ম্যানেজার মঞ্জুয়ারা পারভীন, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সুবল কুমার ঘোষ।
বক্তারা বলেন—
অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো যেমন মানুষের জীবন সহজ করেছে, তেমনি এগুলোর আড়ালে সক্রিয় রয়েছে মানব পাচারকারী চক্র। ফেসবুক, টিকটক, লাইকি, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে তারা নারীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের ফাঁদে ফেলছে। এতে নারীরা শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তারা আরও বলেন, অধিকাংশ ভুক্তভোগী রিপোর্টিং ব্যবস্থা, সহায়তা কেন্দ্র বা নিরাপত্তা টুলস সম্পর্কে জানেন না। তাই ডিজিটাল নিরাপত্তা, সাইবার বুলিং, অনলাইন সুরক্ষা ও মানসিক সুস্থতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সরকার, প্রশাসন, সিভিল সোসাইটি, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
অনুষ্ঠানে শপথ বাক্য পাঠ করান উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নবনীতা দত্ত।
সভায় বিভিন্ন নারী সংগঠনের প্রতিনিধি, ইয়ুথ ক্লাব, সাংস্কৃতিক সংগঠন, ছাত্র–শিক্ষক, সরকারি–বেসরকারি পেশাজীবী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রূপান্তরের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর রাবেয়া বশরী।