
বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে বাণিজ্যিক স্বার্থের পাশাপাশি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, “মাছ শুধু বাণিজ্যিক পণ্য নয়—এটি মানুষের খাদ্যের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।”
আজ সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশ আয়োজিত ‘সুস্থ সাগর (হেলদি ওশান)’ শীর্ষক ইনসেপশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা জানান, সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও মৎস্য অধিদপ্তরসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো কাজ করছে। তবে শুধু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত মাছ ধরার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ফাঁস জাল ও বেহেন্দি জালের মতো নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারে বিভিন্ন আকারের মাছ ধরা পড়ে জালেই মারা যাচ্ছে। এতে সামগ্রিক মাছের মজুদ কমে যাচ্ছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুতর হুমকি।
সাম্প্রতিক তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের গবেষণা জাহাজ Dr. Fridtjof Nansen–এর প্রতিবেদনে গত সাত বছরে বঙ্গোপসাগরে মাছের প্রাপ্যতা প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে গেছে। একই সাথে সমুদ্রের বিভিন্ন অঞ্চলে অক্সিজেনের ঘাটতি ও প্লাস্টিক দূষণ মারাত্মকভাবে বেড়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হিসেবে তিনি জানান, সাম্প্রতিক জরিপে বঙ্গোপসাগরে নতুন ৬৫ প্রজাতির মাছ শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৫ প্রজাতি পূর্বে বিশ্বে অশনাক্ত ছিল।
বড় বড় জাহাজের অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, “সমুদ্রে গিয়ে ইচ্ছামতো আহরণের সুযোগ আর রাখা যাবে না—সবকিছুই নিয়মের আওতায় আনতে হবে।” খাদ্য উপযোগী নয় এমন মাছ ধরে আবার সাগরে ফেলে দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো: আমীর হোসাইন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন—মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ মন্ত্রণালয়) কমোডর শেখ মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত সচিব (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) ড. মোঃ আবদুর রউফ, মহাপরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর