
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়া নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং আগের অবস্থার তুলনায় তার শারীরিক অবস্থা একই পর্যায়ে বজায় আছে।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, গত ২৩ নভেম্বর থেকে বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ২৭ নভেম্বর থেকে তিনি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) অবস্থান করছেন। তার চিকিৎসায় বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক মেডিকেল বোর্ড কাজ করছে। প্রতিদিন সকালে দেশীয় চিকিৎসকরা এবং সময়ের ব্যবধান বিবেচনায় সন্ধ্যায় বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমের যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন। তবে বয়সজনিত কারণ ও দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তার শারীরিক জটিলতা বেড়েছে, যার ফলে তিনি একটি কঠিন সময় পার করছেন।
এ সময় ডা. জাহিদ দেশবাসীর কাছে মহান আল্লাহর দরবারে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন। তিনি জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা সার্বক্ষণিকভাবে তার চিকিৎসার খোঁজখবর রাখছেন।
এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার কারণে হাসপাতালে অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে না বলেও আশ্বস্ত করেন ডা. জাহিদ হোসেন।