
গণমাধ্যমে নারীর অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত নারী সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি (বিজেপিসি)। খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খুলনা, ঢাকা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জ জেলার নয়জন নারী সাংবাদিকের হাতে আধুনিক ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয়। কানাডার একটি দাতা সংস্থার অর্থায়নে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল ১৯-এর সহযোগিতায় ‘ইকুয়ালি সেফ: টুওয়ার্ডস এ ফেমিনিস্ট এজেন্ডা টু দ্য সেফটি অব জার্নালিস্টস (ফেম সোজ-২)’ প্রকল্পের আওতায় এই কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়েছে। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “Bringing the Unseen to Light”, যার লক্ষ্য মূলত সমাজের অন্তরালে থাকা বৈষম্য ও নিপীড়নের চিত্রগুলো নির্ভীকভাবে জনসমক্ষে নিয়ে আসা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নারী সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রের নানাবিধ চ্যালেঞ্জ ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনা করেন। বিজেপিসি’র সভাপতি কৌশিক দে-র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিরা উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়েও নারী সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং এই ল্যাপটপ বিতরণের মতো বাস্তবমুখী সহায়তা তাদের কাজের গতি বাড়াতে এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সাহসী ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে। খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, নারী সাংবাদিকদের সুরক্ষায় এমন কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ সত্যিই বিরল এবং প্রশংসনীয়। তিনি মনে করেন, এই প্রযুক্তিগত সহায়তা তৃণমূল পর্যায়ের নারী সাংবাদিকদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজেপিসি’র কার্যনির্বাহী সদস্য মোস্তফা জামান পাপলু এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মাহমুদা আক্তার মৌমিতা। এছাড়া সংহতি প্রকাশ করে অনুষ্ঠানে যোগ দেন একুশে টেলিভিশনের বিভাগীয় প্রধান আশরাফুল ইসলাম নূর, যুগান্তরের খুলনা বিভাগীয় প্রধান আহমেদ মুছা রঞ্জু, দৈনিক প্রবাহের বার্তা সম্পাদক মেহেদী মাসুদ খান, বিএফইউজে-র যুগ্ম মহাসচিব মো. হেদায়েত হোসেন মোল্লাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। আলোচকরা একমত পোষণ করেন যে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পূর্ণ বিকাশের জন্য নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি কৌশিক দে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং বিজেপিসি সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।