1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. khulnarprotichchobi@gmail.com : khulnarprotichchob :
  3. shobuj.khulna@gmail.com : al masum Shobuj : al masum Shobuj
সৈকতের বালুচরে পড়ে থাকা ঝিনুক: এক সময়ের জীবন্ত প্রাণীর সুরক্ষাকবচ ও প্রকৃতির বিস্ময় - khulnarprotichchobi
২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| সোমবার| সন্ধ্যা ৭:১৮|
শিরোনামঃ
দিঘলিয়ায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক জখম, এলাকায় উত্তেজনা খুলনায় ৯৩ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা: কাল থেকেই শুরু হচ্ছে মহাপ্রচারাভিযান পুলিশ প্রশাসনে রদবদল: অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৬ কর্মকর্তার নতুন পদায়ন কুড়িগ্রামে র‍্যাবের সাড়াঁশি অভিযান: বসতবাড়ির খাটের নিচ থেকে ৭৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার, কারবারি গ্রেপ্তার তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি: সংঘাত এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি, রণক্ষেত্র এড়াতে সতর্ক পুলিশ ভোলায় কোস্ট গার্ডের সাড়াঁশি অভিযান: সোয়া লাখ টাকার নকল সিগারেট জব্দ, রাজস্ব ফাঁকির ছক নস্যাৎ হামমুক্ত খুলনার দাবিতে উত্তাল সিভিল সার্জন কার্যালয়: আগামী বৃহস্পতিবার ডিসি অফিস ঘেরাওয়ের ডাক টেলিগ্রামে বন্ধুত্বের আড়ালে ভয়ংকর ফাঁদ: মাওয়া ঘাটে ইলিশ খাওয়ার প্রলোভনে সর্বস্ব হারালেন যুবক রূপসা সেতুতে গতকালকের ত্রিমুখী সংঘর্ষ: অল্পের জন্য বড় রক্ষা, যানজটে নাকাল ছিল যাত্রীরা বেজপাড়ায় ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: ৮০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত ‘ববি’ গ্রেপ্তার

সৈকতের বালুচরে পড়ে থাকা ঝিনুক: এক সময়ের জীবন্ত প্রাণীর সুরক্ষাকবচ ও প্রকৃতির বিস্ময়

এস, এম আরাফাত আলী
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
Spread the love

 

সমুদ্রের নীল জলরাশি যখন তীরের বালুকাভূমিতে আছড়ে পড়ে ফিরে যায়, তখন পেছনে রেখে যায় অগণিত বিচিত্র আকৃতির ঝিনুক। সৈকতে পড়ে থাকা এসব পরিত্যক্ত ঝিনুক পর্যটকদের কাছে কেবল সংগ্রহের বস্তু মনে হলেও, এর প্রতিটিই এক সময় ছিল কোনো না কোনো জীবিত প্রাণীর অবিচ্ছেদ্য অংশ। মূলত সমুদ্রের রুক্ষ ও প্রতিকূল পরিবেশে শামুক, ক্লামস, অয়েস্টার বা মাসেলের মতো নরম দেহের মলাস্কজাতীয় প্রাণীরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই শক্ত আবরণটি তৈরি করে। হাড়বিহীন এই প্রাণীগুলোর নড়াচড়া অত্যন্ত ধীর হওয়ায় এই কঠিন খোলসই তাদের একমাত্র আত্মরক্ষার ঢাল হিসেবে কাজ করে। আমরা যখন সৈকতে কোনো নির্জীব ঝিনুক পড়ে থাকতে দেখি, তখন বুঝতে হবে এর ভেতরের মূল অধিবাসী প্রাণীটি আর বেঁচে নেই।

একটি ঝিনুকের বাহ্যিক গঠন বিশ্লেষণ করলে প্রকৃতির এক নিখুঁত প্রকৌশল লক্ষ্য করা যায়। এটি মূলত তিনটি স্তরে বিন্যস্ত থাকে। এর একদম বাইরের স্তরটি কিছুটা খসখসে ও অনুজ্জ্বল, যা সমুদ্রের প্রাথমিক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে সক্ষম। এর ঠিক নিচেই থাকে খনিজ ক্রিস্টাল সমৃদ্ধ অত্যন্ত শক্তিশালী দ্বিতীয় স্তর, যা ঝিনুককে অনমনীয় শক্তি প্রদান করে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ হলো প্রাণীর শরীরের সাথে লেগে থাকা একদম ভেতরের স্তরটি, যাকে ‘মাদার অব পার্ল’ বা নেকার বলা হয়। এই স্তরটি দেখতে যেমন মসৃণ ও উজ্জ্বল, তেমনি এটি কাঠামোগতভাবে বেশ টেকসই। একটি মলাস্কজাতীয় প্রাণী তার দেহের ‘ম্যান্টল’ নামক বিশেষ টিস্যু স্তর থেকে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম কার্বোনেট নির্গত করে এই সুরক্ষিত দুর্গটি নিজেই গড়ে তোলে। অনেকটা ডিমের খোসার উপাদানে তৈরি এই খোলসটি প্রাণীর বৃদ্ধির সাথে সাথে স্তরে স্তরে বড় হতে থাকে।

সমুদ্রের তলদেশে বসবাসকারী এই প্রাণীদের মৃত্যুর পর তাদের পরিত্যক্ত খোলসগুলো সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়। এই যাত্রাপথে অনেক ঝিনুক অক্ষত অবস্থায় তীরে এসে পৌঁছালেও বিশাল একটি অংশ ঢেউয়ের প্রবল আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। মজার বিষয় হলো, বিশ্বের অনেক সাদা বালুর সৈকতের সিংহভাগ বালুই আসলে কোটি কোটি বছরের ঝিনুক চূর্ণের সমষ্টি। এই ঝিনুকগুলো কেবল সৈকতের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং সমুদ্রের বাস্তুসংস্থানেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নির্জীব ঝিনুকগুলো সমুদ্রের অন্যান্য ছোট জলজ প্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। এছাড়া সৈকতের মাটির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং প্রাকৃতিক ক্ষয় রোধে এই খোলসগুলোর অবদান অপরিসীম।

প্রকৃতির এই নিরব কারিগরদের ফেলে যাওয়া চিহ্নগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সমুদ্রের অতল গহ্বরে প্রতিটি প্রাণের রয়েছে নিজস্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা। সৈকতে পড়ে থাকা একটি ক্ষুদ্র ঝিনুকও তাই কেবল একটি খোলস নয়, বরং জীবন ও প্রকৃতির এক নিবিড় সংগ্রাম এবং বিবর্তনের গল্প বয়ে বেড়ায়। পর্যটন নগরী কুয়াকাটা বা কক্সবাজারের মতো সৈকতগুলোতে যখন আমরা হাঁটাহাঁটি করি, তখন পায়ের নিচে পড়ে থাকা এই ঝিনুক চূর্ণগুলোই মূলত সমুদ্রের বিশাল জৈবচক্রের সাক্ষ্য বহন করে।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025