
নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রায় নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামীর সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ার ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। ভোটদান পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তারেক রহমান দেশের বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতি এবং দলীয় লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই যেকোনো ধরনের অগণতান্ত্রিক ষড়যন্ত্র নসাৎ করে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। নির্বাচনের এই দিনটিকে তিনি জনগণের রাষ্ট্রীয় মালিকানা নিশ্চিতের দিন হিসেবে অভিহিত করেন।
গত রাতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গত রাতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর তাঁর কাছে পৌঁছেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। তবে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোরভাবে সেসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি না হলেও তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাবাদী মনোভাব ব্যক্ত করেন। জনগণের সুচিন্তিত রায়ের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ভোটাররা যদি শেষ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসতে পারেন, তবে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপির অগ্রাধিকার কী হবে, সে সম্পর্কেও স্বচ্ছ ধারণা দেন তারেক রহমান। তিনি জানান, তাদের সরকার গঠনের প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে দেশের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল সংস্কার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা। সাধারণ মানুষ যেন দেশের যেকোনো প্রান্তে নির্ভয়ে বিচরণ করতে পারেন এবং নিজেদের নিরাপদ মনে করেন, সেটিই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। এ ছাড়াও দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা অর্থাৎ নারী সমাজকে পেছনে রেখে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। নির্বাচনের ইশতেহারে নারীদের ক্ষমতায়ন ও মূল্যায়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সরকার গঠন করলে প্রথম দিন থেকেই তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
এর আগে সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তারেক রহমান গণতন্ত্রকামী জনতাকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান। তিনি প্রত্যেক ভোটারকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচনের স্বাধীনতা প্রয়োগের পরামর্শ দেন এবং ভোটারদের রাষ্ট্রীয় মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন। নির্বাচিত প্রার্থীদের দায়বদ্ধতার বিষয়েও তিনি কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী প্রার্থীরা যেন জনগণের সেবায় সঠিকভাবে নিয়োজিত থাকেন, তা তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করবেন। দেশবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করে সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখাই হবে তাঁদের আগামীর রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি।