
বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে এই শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এ দিন জোটের নির্বাচিত সদস্যরা দ্বৈত শপথ গ্রহণ করেন; প্রথমে তারা জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং পরবর্তীতে ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’-এর সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত এই প্রতিনিধিদের শপথবাক্য পাঠ করান। রাষ্ট্র সংস্কার ও সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের অঙ্গীকার নিয়ে জোটের এই সদস্যরা আইনসভায় তাদের যাত্রা শুরু করলেন।
শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এক আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করা হয়। এরপর সিইসি একে একে উপস্থিত সকল সদস্যকে শপথ পাঠ করান। সংসদ সচিবালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, একই দিনে সকাল পৌনে ১১টার দিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছিলেন। বিএনপির শপথের পর দুপুর নাগাদ জামায়াত ও তাদের জোটসঙ্গী ১১টি দলের প্রার্থীরা শপথ কক্ষে সমবেত হন। এই জোটের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংসদের বিরোধী শিবিরের শক্তিশালী উপস্থিতির জানান দিলেন তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১১ দলীয় জোটের এই শপথ গ্রহণ এবং বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে তাদের অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া দেশের ভবিষ্যৎ শাসনতন্ত্র পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা যেমন আইনসভায় জনগণের কথা বলবেন, তেমনি জুলাই বিপ্লব পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কারের কাজেও নিজেদের সম্পৃক্ত রাখবেন। আজকের এই শপথ গ্রহণের পর সংসদীয় গণতন্ত্রের চাকা সচল হওয়ার পাশাপাশি নতুন সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে এক কার্যকর সংসদ গঠিত হতে যাচ্ছে বলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করছে।