
যশোরে এক কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) কে অপহরণের ৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার করেছে র্যাব। বুধবার (দিবাগত রাত) চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের খলশি গ্রামের একটি নির্জন ইটভাটা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৬ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার এ.টি.এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স।
র্যাব জানায়, গত ২ মার্চ রাতে অপহরণের ঘটনাটি ঘটে। যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের ‘আর আর মেডিকেল’ ও ‘জে আর এগ্রোভেট’ নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিনের মতো ওই দিন রাত ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে করে ধর্মতলা সুজলপুর এলাকায় নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
অপহরণের পর রাত ১০টার দিকে অপহরণকারীরা জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার মা ও স্ত্রীকে ফোন করে। তাকে জীবিত ফেরত পেতে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং বিষয়টি পুলিশকে না জানাতে হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় গত ৪ মার্চ বিকেলে যশোর প্রেসক্লাব-এ সংবাদ সম্মেলন করেন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেশমা খাতুন। এ সময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এবং তিন মেয়েকে নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তিনি স্বামীকে জীবিত ফিরে পেতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা বাড়ায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬ এর সিপিসি-৩ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে বুধবার দিবাগত গভীর রাতে চৌগাছা উপজেলার খলশি গ্রামের একটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে হাত-পা বাঁধা ও বিধ্বস্ত অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।