
ডায়াবেটিস বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আতঙ্কিত না হয়ে জীবনযাত্রায় সঠিক পরিবর্তন এবং খাদ্যাভ্যাসে সামান্য সচেতনতা অবলম্বন করলে এই দুরারোগ্য ব্যাধিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যদিও কোনো খাবারই রাতারাতি ম্যাজিকের মতো কাজ করে না, তবুও কিছু প্রাচীন এবং কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অবিশ্বাস্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে যা আধুনিক গবেষণায়ও প্রমাণিত।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে ছোলা ভেজানো পানি একটি চমৎকার প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করতে পারে। ছোলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকলেও এর ভেজানো পানির গুনাগুণ সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই পানি পান করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শর্করার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। এটি শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে ওজন কমাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রস্তুত প্রণালি হিসেবে রাতে পরিষ্কার পানিতে দুই মুঠো ছোলা ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করা এবং সাথে ভেজানো ছোলাগুলো খেয়ে নেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হিতকর।
কেবল ছোলার পানিই নয়, মেথি এবং দারুচিনির ব্যবহারও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আশার আলো হতে পারে। মেথিতে থাকা বিশেষ ফাইবার কার্বোহাইড্রেট ও চিনি শোষণের গতি কমিয়ে দেয়, যা রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি রোধ করে। এক চামচ মেথি সারারাত এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে পান করলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। অন্যদিকে, দারুচিনি শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের চা বা নিয়মিত রান্নায় সামান্য দারুচিনি গুঁড়ো ব্যবহারের মাধ্যমে রক্তে সুগারের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।
ডায়াবেটিস মোকাবিলায় করলার রসকে একটি শক্তিশালী উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। করলায় উপস্থিত চারাটিন ও মোমর্ডিসিন নামক উপাদান সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে কাজ করে। প্রতিদিন সকালে আধা কাপ করলার রস পান করা রোগীদের জন্য যেমন উপকারী, তেমনি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতেও এটি কার্যকর। তবে এই সব ঘরোয়া দাওয়াইয়ের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা অপরিহার্য, যা পেশিকে রক্ত থেকে চিনি সরাসরি ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করে। যেকোনো ঘরোয়া পদ্ধতি নিয়মিত গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত বিরতিতে ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি।