
সুজিত বাছাড়
“ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ান, শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমান”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থাপিত কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
সকালে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম। এ সময় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব নির্মূল, শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে সারা দেশের মতো দিঘলিয়াতেও এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ১৪৫টি স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে একযোগে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের এক লাখ আইইউ (আন্তর্জাতিক একক) সমৃদ্ধ নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের দুই লাখ আইইউ সমৃদ্ধ লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণের পাশাপাশি অভিভাবকদের শিশু পুষ্টি সম্পর্কেও সচেতন করা হয়। বিশেষ করে শিশুর ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর শুধুমাত্র মায়ের দুধের ওপর নির্ভর না করে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে শিশুর পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত টিকাদান এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর দিঘলিয়া উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৭৯৮ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু ২ হাজার ২৪৮ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু ১৫ হাজার ৫৫০ জন।
কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ২৯০ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ১৮ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে কার্যক্রম তদারকি করেন, যাতে নির্ধারিত বয়সী কোনো শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ থেকে বাদ না পড়ে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম বলেন, “ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নির্ধারিত বয়সী প্রতিটি শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।”
তিনি আরও জানান, সরকারের জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন দীর্ঘদিন ধরে সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপুষ্টি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হচ্ছে।