1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. khulnarprotichchobi@gmail.com : khulnarprotichchob :
  3. shobuj.khulna@gmail.com : al masum Shobuj : al masum Shobuj
গল্লামারী বধ্যভূমি: লাল রক্তিম সূর্যের নিচে এক রক্তাক্ত ইতিহাসের উপাখ্যান - khulnarprotichchobi
১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| বৃহস্পতিবার| সন্ধ্যা ৭:৪২|
শিরোনামঃ
বিশ্ব যোগাসনে খুলনার কৃতি সন্তান মামুনের অনন্য সাফল্য খুলনায় ৯ বছরের শিশু রায়হান সিনহা নিখোঁজ, সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি রূপসার নৈহাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ বিস্তার, উদ্বেগে সাধারণ মানুষ ডিবি পরিদর্শক তৈমুর ইসলামকে কেএমপি থেকে বদলি জলাবদ্ধতায় নাকাল খুলনা পিটিআই, দুর্ভোগে শিক্ষক-প্রশিক্ষণার্থীরা শিশু রামিসা হত্যার প্রধান আসামি সোহেল ও স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দিঘলিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত। তীব্র তাপপ্রবাহে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: হিট স্ট্রোক নাকি হার্ট অ্যাটাক, জীবন বাঁচাতে লক্ষণ চেনার উপায় ঘরে বসে আয়ের ফাঁদ: ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে সর্বস্বান্ত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, নেপথ্যে সক্রিয় শক্তিশালী সাইবার চক্র হাতের স্মার্টফোনই এখন প্রথম অফিস: ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিংয়ে বদলে যাচ্ছে তরুণদের ভাগ্য

গল্লামারী বধ্যভূমি: লাল রক্তিম সূর্যের নিচে এক রক্তাক্ত ইতিহাসের উপাখ্যান

এস, এম আরাফাত আলী
  • Update Time : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
Spread the love

খুলনা মহানগরের কোলাহল ছেড়ে খানিকটা দক্ষিণে গেলেই চোখে পড়ে এক বিশাল স্থাপত্য, যার শরীরজুড়ে মিশে আছে সাত বীরশ্রেষ্ঠের মহিমা। কিন্তু এই প্রশান্তির আড়ালে ঢাকা পড়ে আছে একাত্তরের সেই ভয়ঙ্কর বিভীষিকা, যখন ‘গল্লামারী’ নামটি শুনলে সাধারণ মানুষের রক্ত হিম হয়ে আসত। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা নিরাপদ ও নির্জন কিলিং জোন হিসেবে বেছে নিয়েছিল রেডিও পাকিস্তানের তৎকালীন খুলনা কেন্দ্রটিকে। বর্তমানে যেখানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চলে, সেই ভবনটিই ছিল একাত্তরের সেই কুখ্যাত কেন্দ্রবিন্দু। ময়ূর নদের নির্জনতা আর পাশের সুবিস্তৃত জলাভূমি ঘাতকদের জন্য লাশ গুম করার এক আদর্শ স্থানে পরিণত হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস জুড়ে এই এলাকাটি ছিল কান্নার ভূমি। সে সময়কার রেডিও স্টেশন, যা আজ ‘শহীদ নজরুল ইসলাম ভবন’ হিসেবে পরিচিত, সেখানে ধরে নিয়ে আসা হতো বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। গবেষক অমল কুমার গাইনের ‘গণহত্যা-বধ্যভূমি ও গণকবর জরিপ: খুলনা জেলা’ বইয়ের ভাষ্যমতে, গল্লামারীতে প্রায় প্রতিদিন গণহত্যা চলত। এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এখানে ঘাতকরা কমপক্ষে ২৫০ বার বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞ চালায়। যদিও প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট গবেষণার অভাব রয়েছে, তবুও ধারণা করা হয় অন্তত ১০ হাজার নিরপরাধ মানুষকে এখানে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজ যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে, একাত্তরে সেখানেই ছিল একটি প্রশস্ত খাল, যেখানে দিন-রাত ভেসে থাকত বাঙালিদের ছিন্নভিন্ন লাশ। হানাদারদের গানবোট যখন সেই খাল দিয়ে চলত, তখন নদীর পানি লাশের ভারে স্থবির হয়ে পড়ত।

দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর ১৯৯০ সালে খুলনার সচেতন নাগরিক সমাজের চাপে প্রথম এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়। ১৯৯০ সালের ২৬ মার্চ এর উদ্বোধন করেন শহীদ পিতা আলতাউদ্দিন আহম্মদ। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে এবং ২০০৮ সালে ধাপে ধাপে এই স্মৃতিসৌধের আধুনিকায়ন করা হয়। স্থপতি আমিনুল ইসলাম ইমনের অনন্য নকশায় নির্মিত বর্তমান আধুনিক স্মৃতিসৌধটি আজ খুলনার অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক স্মারক। এখানে দাঁড়িয়ে থাকা সাতটি সুউচ্চ স্তম্ভ আমাদের সাত বীরশ্রেষ্ঠের বীরত্বকে তুলে ধরে, আর মাঝখানের লাল সূর্যটি জানান দেয় এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার কথা।

ইতিহাসের সেই কালিমালিপ্ত দিনগুলোকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ২০১৬ সালে ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি স্মৃতিফলক উন্মোচন করেন। শুধু তাই নয়, ক্যাম্পাসের ভেতরে পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যবহৃত সেই বিভীষিকাময় টর্চারসেলটিকেও ‘গল্লামারী বধ্যভূমি স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আধুনিক ল্যান্ডস্কেপিং ও সংস্কার কাজের মাধ্যমে এই স্থানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা ও স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। গল্লামারী তাই আজ কেবল একটি ভৌগোলিক স্থান নয়, বরং তা আমাদের জাতীয় বীরত্ব এবং শোকের এক জীবন্ত দলিল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025