1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. khulnarprotichchobi@gmail.com : khulnarprotichchob :
  3. shobuj.khulna@gmail.com : al masum Shobuj : al masum Shobuj
ঘরে বসে আয়ের ফাঁদ: ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে সর্বস্বান্ত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, নেপথ্যে সক্রিয় শক্তিশালী সাইবার চক্র - khulnarprotichchobi
১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| বৃহস্পতিবার| সন্ধ্যা ৭:৪২|
শিরোনামঃ
বিশ্ব যোগাসনে খুলনার কৃতি সন্তান মামুনের অনন্য সাফল্য খুলনায় ৯ বছরের শিশু রায়হান সিনহা নিখোঁজ, সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি রূপসার নৈহাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ বিস্তার, উদ্বেগে সাধারণ মানুষ ডিবি পরিদর্শক তৈমুর ইসলামকে কেএমপি থেকে বদলি জলাবদ্ধতায় নাকাল খুলনা পিটিআই, দুর্ভোগে শিক্ষক-প্রশিক্ষণার্থীরা শিশু রামিসা হত্যার প্রধান আসামি সোহেল ও স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দিঘলিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত। তীব্র তাপপ্রবাহে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: হিট স্ট্রোক নাকি হার্ট অ্যাটাক, জীবন বাঁচাতে লক্ষণ চেনার উপায় ঘরে বসে আয়ের ফাঁদ: ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে সর্বস্বান্ত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, নেপথ্যে সক্রিয় শক্তিশালী সাইবার চক্র হাতের স্মার্টফোনই এখন প্রথম অফিস: ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিংয়ে বদলে যাচ্ছে তরুণদের ভাগ্য

ঘরে বসে আয়ের ফাঁদ: ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে সর্বস্বান্ত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, নেপথ্যে সক্রিয় শক্তিশালী সাইবার চক্র

এস, এম আরাফাত আলী
  • Update Time : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
Spread the love

 

প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের এই যুগে ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে উপার্জনের স্বপ্ন দেখছেন দেশের লাখ লাখ বেকার তরুণ-তরুণী। তবে এই স্বপ্ন ও সরলতার সুযোগ নিয়ে ওত পেতে থাকা এক শ্রেণীর সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধী চক্র এখন মেতে উঠেছে সর্বনাশা প্রতারণার খেলায়। ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিংয়ের আড়ালে মোটা অঙ্কের টাকা আয়ের লোভনীয় টোপ ফেলে তরুণ সমাজের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্রগুলো। সাম্প্রতিক সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ভার্চুয়াল জগতে সাইবার প্রতারকদের বিস্তার এখন এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, মনে হয় প্রতি এক গজ দূরে দূরেই যেন একজন করে প্রতারক দাঁড়িয়ে আছে। শুধু একটি সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিংবা ল্যাপটপকে অস্ত্র বানিয়ে ডিজিটাল উপায়ে তারা সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলছে। অথচ লোকলজ্জা, সামাজিক মর্যাদা হানি এবং আইনি প্রক্রিয়ার বাড়তি ঝামেলার ভয়ে ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশই শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের দ্বারস্থ হন না। আর এই নীরবতার সুযোগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাইবার অপরাধীরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যার ফলে প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই জালিয়াতির জাল।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই চক্রগুলোর ফাঁদ পাতার কৌশল অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মনস্তাত্ত্বিক। তারা মূলত ফেসবুক, ইউটিউবসহ জনপ্রিয় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আকর্ষণীয় ও চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করে। যেখানে বলা হয়, কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রতিদিন ঘরে বসে হাজার হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। এই ধরনের লোভনীয় অফার দেখে যখন কোনো চাকরিপ্রার্থী বা তরুণ যোগাযোগ করেন, তখন শুরুতেই তাদের ওপর কোনো বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হয় না। বরং নিখুঁতভাবে বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রথম দিকে অত্যন্ত সহজ কিছু কাজ দেওয়া হয়, যেমন গুগল ম্যাপে রিভিউ দেওয়া কিংবা অনলাইন ভোটিং সিস্টেম আপগ্রেড করার মতো কাজ। কাজ শেষ হওয়া মাত্রই ভুক্তভোগীদের অ্যাকাউন্টে বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কিছু টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই সামান্য প্রাপ্তিই তরুণদের মনে চক্রটির প্রতি গভীর বিশ্বস্ততা তৈরি করে। এরপরই শুরু হয় আসল খেলা, যেখানে ভুক্তভোগীদের একটি ক্লোজড টেলিগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে বলা হয়, বড় অঙ্কের লভ্যাংশ পেতে হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ইনভেস্ট বা বিনিয়োগ করতে হবে। শুরুতে ছোট ইনভেস্টমেন্টের বিপরীতে লভ্যাংশসহ টাকা ফেরত দিয়ে তাদের লোভের পারদ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে যখন ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে বড় অঙ্কের টাকা জমা দেন, তখনই লভ্যাংশ দেওয়ার নামে আরও বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়ে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এই অদৃশ্য প্রতারকেরা।

এই ধরনের অভিনব ও সুপরিকল্পিত প্রতারণার নির্মম শিকার হয়েছেন আরাফাত হোসেন নামের এক তরুণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিদিন ঘরে বসে সহজ উপায়ে পাঁচ হাজার টাকা আয়ের একটি বিজ্ঞাপন দেখে তিনি প্রলুব্ধ হন এবং বিজ্ঞাপনে দেওয়া নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। প্রাথমিক কথানুযায়ী তাকে গুগল ম্যাপে রিভিউ দেওয়ার কাজ দেওয়া হয় এবং কাজ শেষে বিকাশের মাধ্যমে ৪৫০ টাকা পরিশোধ করে তাঁর শতভাগ আস্থা অর্জন করে নেয় চক্রটি। এরপর তাকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করে দুই হাজার টাকা বিনিয়োগে ২৮০০ টাকা লভ্যাংশের অফার দেওয়া হলে তিনি গত বছরের ২৯ অক্টোবর সেই টাকা পাঠান এবং লভ্যাংশসহ তা ফেরতও পান। এই সফলতায় অন্ধ হয়ে তিনি পরবর্তী সময়ে দুই ধাপে ২৩ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু এবার লাভের টাকা তুলতে গেলে তাঁর কাছে আরও ৩৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এভাবে একের পর এক ধাপে লভ্যাংশ ও আসল টাকা ফেরতের ফাঁদে ফেলে ধাপে ধাপে আরাফাত হোসেনের কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে চক্রটি পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়। কোনো উপায় না দেখে অবশেষে ওই তরুণ রাজধানীর রামপুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

আরাফাত হোসেনের এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট এন্টি টেরোরিজম ইউনিট তথা এটিইউর সাইবার ক্রাইম উইং। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও নিবিড় অনুসন্ধানের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, এই সংঘবদ্ধ চক্রের মূল কলকাঠি নাড়ছে হিমেল ও মোশাররফ নামের দুই মূল হোতা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জানুয়ারি এটিইউর সাইবার ক্রাইম উইং এক সফল অভিযান পরিচালনা করে অন্যতম মূল হোতা মোশাররফকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও অপর শীর্ষ অপরাধী হিমেল এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। গ্রেফতারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মোশাররফ যে তথ্য দিয়েছে তা রীতিমতো চোখ কপালে ওঠার মতো। সে স্বীকার করেছে যে, দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কৌশলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অজস্র তরুণ-তরুণীকে লভ্যাংশের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে সে একাই অন্তত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সাইবার স্পেসের বিশাল দুনিয়ায় এমন অসংখ্য অদৃশ্য দেশী-বিদেশী চক্র প্রতিনিয়ত ওত পেতে বসে আছে।

এই বৈশ্বিক ও জাতীয় সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এটিইউর পুলিশ সুপার ব্যারিস্টার মাহফুজুল আলম রাসেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলতার সাথে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে, যার মূল চালিকাশক্তিই হলো তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় উৎকর্ষ সাধন। প্রযুক্তির এই অগ্রগতি মানব সভ্যতার উন্নয়ন ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে সহজ করতে অনন্য ভূমিকা পালন করলেও, একটি অপরাধী চক্র এই প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে নিত্যনতুন সাইবার ক্রাইম ঘটিয়ে চলেছে। অনলাইনভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং বা ঘরে বসে আয়ের লোভনীয় প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের ফাঁদে ফেলা এই সাইবার অপরাধেরই একটি চরম কুৎসিত রূপ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি দেশের তরুণ সমাজকে যেকোনো অনলাইন কাজের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানান। একই সাথে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেনের আগে প্রতিষ্ঠানের সত্যতা যাচাই করা এবং যেকোনো সন্দেহজনক ঘটনায় লোকলজ্জা ভুলে তাৎক্ষণিকভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানোর ওপর জোর দেন, যাতে করে প্রযুক্তির এই অন্ধকার দিকটিকে সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমে রুখে দেওয়া সম্ভব হয়।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025