
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সভাকক্ষে “অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে করণীয়” শীর্ষক সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন,
👉 “ন্যায্যতা ও কমপ্লায়েন্সের ভিত্তিতেই অনলাইন জুয়ায় জড়িত অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে তিনি জানান, বিটিআরসি ইতোমধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে জুয়া প্রতিরোধে মেইল প্রেরণ শুরু করেছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, “মিডিয়া হাউজগুলো কীভাবে তাদের ওয়েব ব্রাউজার ও অ্যাডসেন্স সেটআপ করবে সে বিষয়ে একটি নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমানে তথ্য মন্ত্রণালয়ে ভেটিং প্রক্রিয়াধীন। অনুমোদন শেষে তা সংশ্লিষ্ট সকল মিডিয়াকে সরবরাহ করা হবে।”
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও জানান, অনলাইন জুয়ায় জড়িত প্রায় ৫ হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার এখন একটি কমন ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও অপারেটরদের তথ্য সংরক্ষণ ও নজরদারি করা হবে।
তিনি বলেন,
> “যারা অনলাইন বেটিংয়ে জড়িত, তাদের ফোন নম্বরের ইন্টারনেট গতি সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। এছাড়া সিম ও এমএফএসের ইকেওয়াইসি সমন্বয়ে দ্রুত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন,
> “দেশকে অনলাইন জুয়া থেকে মুক্ত করতে হলে জুয়ার চক্রের সুডো সদস্যদের চিহ্নিত করা, ট্রাফিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে লিংক স্লো করা এবং সংশ্লিষ্ট এমএফএস অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যাচাই শেষে এসব অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হবে, তবে ন্যায্যতা ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করেই।”
সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, যুব সমাজকে বিপথগামীতা থেকে রক্ষা করা এবং অর্থপাচার রোধে একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
সভায় বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন,
> “১৬ ডিসেম্বরের পর সিম সংখ্যা ১০টিতে সীমিত করলে জুয়া প্রতিরোধে এটি সহায়ক হবে। একই সঙ্গে যারা জুয়া খেলছে তাদের শনাক্ত করাও জরুরি।”
পেমেন্ট সিস্টেম এজেন্সির প্রতিনিধি জানান, সিম, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সমন্বয় করা গেলে অনলাইন জুয়ার সমস্যা অনেকাংশে সমাধান সম্ভব। বিকাশের প্রতিনিধি জানান, গত দুই সপ্তাহে ৩৯৭টি মোবাইল নম্বর বন্ধ করা হয়েছে এবং ক্রলিং ইঞ্জিন ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইন ট্র্যাকিং প্রক্রিয়া উন্নয়ন করা হচ্ছে।
সভায় আরও প্রস্তাব করা হয়— অনলাইন স্ক্যাম ও জুয়া প্রতিরোধে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন এবং ক্রস-ডোমেইন মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার জন্য।
সভায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে সার্ভিস, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
📸 তথ্য ও ছবি: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়