
দেশের মোবাইল ফোন বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধের লক্ষ্যে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আগামী ১লা জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন ও কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও সরকারের পক্ষ থেকে অভয় দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ তৈয়্যব সাধারণ গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, আপাতত নতুন এই সিস্টেমটি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য হালনাগাদের পর্যায়ে রয়েছে। ফলে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কোনো হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন বা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই পদক্ষেপের ফলে কোটি কোটি ব্যবহারকারীকে তাদের ব্যবহৃত ডিভাইসের বৈধতা দ্রুত নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ কেবল রাজস্ব ফাঁকি রোধ করবে না, বরং চুরি যাওয়া বা ক্লোন করা হ্যান্ডসেটের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে বলে আশা করছে বিটিআরসি।
বিটিআরসি জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা খুব সহজে এবং দ্রুত তাদের মোবাইল ফোনটি বৈধভাবে নিবন্ধিত কিনা তা যাচাই করতে পারবেন। এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কোনো প্রকার ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন নেই। ব্যবহারকারীকে তার মোবাইল ফোন থেকে কেবল *১৬১৬১# নম্বরে ডায়াল করতে হবে। এরপর স্বয়ংক্রিয় নির্দেশনার মাধ্যমে ফোনের আন্তর্জাতিক মোবাইল সরঞ্জাম পরিচিতি বা আইএমইআই (IMEI) নম্বরটি লিখে পাঠাতে হবে। ১৫ সংখ্যার এই আইএমইআই নম্বরটি পাঠানোর পরপরই ফিরতি একটি খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে ফোনটির নিবন্ধন এবং বৈধতার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ব্যবহারকারীকে অবহিত করা হবে।
যদি কোনো ব্যবহারকারীর ফোন নিবন্ধিত না থাকে, তবে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত তা বৈধকরণের সুযোগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রথমে ফোনের আইএমইআই নম্বরটি সংগ্রহ করতে হবে, যা *#০৬# ডায়াল করে সহজেই জানা যায়। এরপর বিটিআরসি পরিচালিত ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার বা এনইআইআর (NEIR) পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। পোর্টালে গিয়ে ব্যবহারকারীকে ‘আইএমইআই রেজিস্ট্রেশন’ অথবা ‘ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন’ অপশনটি নির্বাচন করতে হবে।
নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের মধ্যে রয়েছে আইএমইআই নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং ডিভাইসটি কেনার সপক্ষে প্রমাণপত্র বা তথ্য। বিদেশ থেকে আনা বা উপহার হিসেবে পাওয়া ফোনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক ও কর পরিশোধের প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে। সকল তথ্য সঠিকভাবে পূরণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। একবার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে, সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোনটি দেশের যেকোনো মোবাইল নেটওয়ার্কে স্বাভাবিকভাবে সংযুক্ত থাকতে পারবে।
বিটিআরসি মনে করছে, এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের মোবাইল ফোন আমদানিতে স্বচ্ছতা আসবে এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি রোধ হবে। একইসঙ্গে, অবৈধ পথে আসা হ্যান্ডসেট এবং ক্লোন ডিভাইসগুলোর বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব হবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে সকল ব্যবহারকারীকে তাদের ডিভাইসের বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য কমিশন থেকে জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে।