
যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে নতুন নিয়োগ সম্পন্ন করেছে সরকার। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কূটনৈতিক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের প্রয়াত আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির ভাই ওমর বিন হাদি। গত বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতার অকাল মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে তার পরিবারের সদস্যের এই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব লাভ জনমনে গভীর আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে নিয়োগের শর্তাবলী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওমর বিন হাদিকে এই পদে যোগদানের আগে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান কর্ম-সম্পর্ক সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে। পেশাগত স্বচ্ছতা ও কূটনৈতিক মর্যাদা বজায় রাখতেই এই শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি যেদিন থেকে কর্মস্থলে যোগদান করবেন, সেদিন থেকে পরবর্তী তিন বছর মেয়াদে বার্মিংহাম মিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করবেন।
এই নিয়োগের বিষয়টি যখন সামনে এল, তখন ঘুরেফিরে আসছে ওমর বিন হাদির বড় ভাই ও ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক শীর্ষ নেতা শরীফ ওসমান বিন হাদির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন মডেল থানা এলাকায় এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি। দুপুর বেলা মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তিনি মাথা ও কানে গুরুতর আঘাত পান। দীর্ঘ কয়েকদিন ঢাকা ও সিঙ্গাপুরের উন্নত হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ১৮ ডিসেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ সংগঠক। তার মৃত্যুর এক মাস পূর্ণ হতে না হতেই সরকারের পক্ষ থেকে তার ভাইকে কূটনৈতিক মিশনে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাটিকে অনেকে তার পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের একটি বিশেষ সহমর্মিতা হিসেবেও দেখছেন।
ওমর বিন হাদি এখন থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের এক সদস্যের এমন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অ্যাসাইনমেন্ট পাওয়ার বিষয়টি যেমন আলোচিত হচ্ছে, তেমনি এটি পেশাগতভাবে ওমর বিন হাদির জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জও বটে। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং প্রবাসীদের সেবায় তিনি কতটা দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পারেন, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের। বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগটি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।