
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গত সাড়ে ১৪ বছর ধরে সাতক্ষীরাবাসীর ওপর অবর্ণনীয় জুলুম ও অন্যায় করা হয়েছে এবং এই জনপদের সাথে অনেকটা সৎ মায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, কেবল ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে সাতক্ষীরার মানুষকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে এবং বুলডোজার দিয়ে নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসার সুযোগ পেলে সাতক্ষীরার উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং অবহেলিত এই জনপদকে দেশের মডেলে পরিণত করা হবে।
বিগত সরকারের সময় দেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল অর্থের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে যার নথিপত্র রয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের ব্যাপারে কোনো ক্ষমা বা আপস নেই। যদি আল্লাহ তাদের সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তবে লুণ্ঠনকারীদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে পাচারকৃত অর্থ বের করে আনা হবে এবং কোনো ‘শিক্ষিত চোর’ জনগণের সম্পদের ওপর হাত দেওয়ার সাহস পাবে না। যুবকদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত বেকার ভাতার মাধ্যমে তরুণদের অপমান করতে চায় না; বরং উন্নত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মাধ্যমে তাদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে মর্যাদাপূর্ণ কাজের নিশ্চয়তা দেবে রাষ্ট্র।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে জামায়াত আমির দুটি ‘দুষ্টু চক্র’ তথা চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট ভেঙে চুরমার করার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বে লিপ্ত হয়নি, বরং তারা জননিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করেছে। প্রতিহিংসার রাজনীতির বিপরীতে তারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের মুক্তি ও বিজয় চান বলে উল্লেখ করেন। ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিতদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
ক্রিকেট তারকা মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, মোস্তাফিজ সাতক্ষীরা তথা পুরো বাংলাদেশের গর্ব। তাকে একটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচে যেতে না দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে তিনি আইসিসির প্রতি আহ্বান জানান। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সুসম্পর্ক রক্ষার ইচ্ছা পোষণ করলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ কাউকে ‘প্রভু’ হিসেবে গ্রহণ করবে না। সাতক্ষীরাকে আলোকিত করা মরহুম নেতাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনে জামায়াত প্রার্থীদের দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে আজাদী নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ সাতক্ষীরার চারটি আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা। ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দও এই সময় সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি আজিজুর রহমান।