
চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন একটি আবাসিক ভবনের অসংখ্য বাসিন্দা। গতকাল ২০শে জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিটে জাকির হোসেন রোডে অবস্থিত সাত তলা বিশিষ্ট ‘নাহার ডিলা’ নামক ভবনে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ভবনটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। ঘটনাস্থলটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-০৩ এর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ঠিক পাশেই হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আসে এবং শুরু হয় এক শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযান।
অগ্নিকাণ্ড শুরু হওয়ার পর ভবনের অধিকাংশ বাসিন্দা দ্রুত নিচে নেমে আসতে সক্ষম হলেও ভেতরে আটকা পড়েন বেশ কয়েকজন অসহায় বৃদ্ধ এবং শিশু। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পুরো ভবনটি তখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। এই সংকটময় মুহূর্তে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে দেবদূতের মতো এগিয়ে আসেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কয়েকজন অসম সাহসী সদস্য। জীবন বাঁচানোর অদম্য স্পৃহা নিয়ে তারা দ্রুত ভবনের ছাদে উঠে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে চরম ঝুঁকি নিয়ে একটি ফ্ল্যাটের বন্ধ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ফায়ার সার্ভিসের আগমনের অপেক্ষা না করে নিজেদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
আরিফুল ও মিরাজ নামের দুই নির্ভীক পুলিশ সদস্যসহ তাদের সহকর্মীদের এই অভাবনীয় সাহসিকতার ফলেই বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই আগুন নেভানো সম্ভব হয়। যেখানে সাধারণ মানুষের পক্ষে আগুনের কুণ্ডলীর কাছে যাওয়াও অসম্ভব ছিল, সেখানে নিজেদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তারা যেভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছেন, তা এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাদের এই বীরত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ফলে নতুন জীবন ফিরে পাওয়া মানুষগুলো এখন কৃতজ্ঞতায় সিক্ত। হয়তো কোনো বড় প্রচারমাধ্যম বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির তালিকায় তাদের নাম উঠবে না, কিন্তু ‘নাহার ডিলা’র প্রতিটি বাসিন্দার হৃদয়ে তারা চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে, সেবার মানসিকতা থাকলে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব। পুলিশ বাহিনীর এই সদস্যদের সাহসিকতা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয়দের মুখে মুখে প্রশংসা পাচ্ছে। অনেক বাসিন্দা মনে করেন, এই বীর সদস্যদের নীরব মোনাজাতে স্মরণ করবেন উদ্ধার হওয়া পরিবারগুলো। অসীম সাহসের পরিচয় দিয়ে আরিফুল ও মিরাজ যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশের পুলিশ বাহিনীর জন্যই একটি গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।