
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে রাজধানী ঢাকার গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পৌঁছে তিনি তাঁর মূল্যবান ভোট প্রদান করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনঃসূচনা হওয়ায় প্রধান উপদেষ্টাকে বেশ উৎফুল্ল দেখা যায়। ভোটকেন্দ্র থেকে বের হয়ে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে নির্বাচন ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নেন এবং এই দিনটিকে জাতীয় ইতিহাসের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় আজকের এই ভোট গ্রহণের দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন যে, দিনটি সমগ্র জাতির জন্য এক মহা আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে এবং সারা দিনব্যাপী এই জন্মদিন উৎসব পালিত হবে। তাঁর মতে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার সমস্ত কালো অধ্যায় ও দুঃস্বপ্নময় অতীতকে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্জন করল। বিগত দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং অন্ধকার দিনগুলো পেছনে ফেলে জাতি আজ এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা শুরু করেছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। ড. ইউনূসের বক্তব্যে একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
দেশের প্রতিটি নাগরিককে এই গণতান্ত্রিক উৎসবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সকলকে নির্ভয়ে ও উৎসাহের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে আসার অনুরোধ জানান। তিনি মনে করেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এই নির্বাচনের সার্থকতা নিশ্চিত করবে। সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের এই দিনটিকে তিনি এতটাই তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেছেন যে, বিদায় নেওয়ার সময় সবাইকে ‘ঈদ মোবারক’ জানিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ঈদের আনন্দের মতো ভোটের এই আনন্দও যেন ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়, প্রধান উপদেষ্টার এই অভিনব শুভেচ্ছাবার্তায় সেই বার্তাই ধ্বনিত হয়েছে।
ড. ইউনূসের এই ভোট প্রদান এবং ইতিবাচক মন্তব্য দেশজুড়ে ভোটারদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের যে বিশাল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার কথায় তারই প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠিত হবে এবং একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথ প্রশস্ত হবে। তাঁর এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অর্থবহ বক্তব্যটি দেশবাসীর কাছে এক নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যেখানে অতীতকে বিদায় জানিয়ে কেবলই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে।