
রাজধানীর বহুল আলোচিত মেট্রোরেল প্রকল্পের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী ফারুক আহমেদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। জনস্বার্থে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এমআরটি শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিএমটিসিএলের এমডি ফারুক আহমেদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হলো। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নাগরিকত্ব ও আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগ
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশের নাগরিকত্ব থাকা এবং Japan International Cooperation Agency (জাইকা) প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে সম্প্রতি তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটেই তার দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ফারুক আহমেদকে ডিএমটিসিএলের নতুন এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই চলমান মেট্রোরেল প্রকল্পের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি সিদ্ধান্ত নিয়ে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার খবর প্রকাশ্যে আসে।
প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা
মেট্রোরেলের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তার মেয়াদকালে প্রকল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ধীরগতির হয়ে পড়ে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএমটিসিএলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে প্রশাসনিক সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছিল।
সরকারি মহলে আলোচিত অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল একাধিক দেশের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়। যদিও এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে—রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব ও আনুগত্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক
এ ছাড়া, জাইকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও সরকারের নজরে আসে। বাংলাদেশের মেট্রোরেল প্রকল্পে জাইকা একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। ফলে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা প্রকল্পের স্বার্থেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর ডিএমটিসিএলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে শিগগিরই পরবর্তী নির্দেশনা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে।