
দেশের বিনোদন ও ডিজিটাল কনটেন্ট অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। কোটি তরুণের প্রিয় মুখ, প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট দিয়ে হৃদয় জয় করা জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, স্ক্রিপ্টরাইটার ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার আর নেই। মাত্র ৩০ বছর বয়সে লিভার ও ফুসফুসের মারাত্মক জটিলতার কাছে হার মেনে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর আজ শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ তারকা (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর অকাল মৃত্যুর এই বেদনাদায়ক খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কিংবদন্তি তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদের নাতনি কারিনা কায়সার মৃত্যুকালে বাবা-মা ও দুই ভাইসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কারিনা কায়সারের এই আকস্মিক অসুস্থতার সূত্রপাত হয়েছিল সাধারণ জ্বর দিয়ে। তবে পরবর্তীতে তাঁর শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ বা ইনফেকশন ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি একই সাথে হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ জনিত জটিলতায় ভুগছিলেন, যা একপর্যায়ে তাঁর লিভার ফেইলিউরের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দেশে অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে তাঁকে প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ এবং পরবর্তীতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। শেষ চেষ্টা হিসেবে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। সেখানকার ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তাঁর নিবিড় চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে তাঁর ফুসফুসের জটিলতা দূর করার চেষ্টা করছিলেন এবং একই সাথে লিভার প্রতিস্থাপনের বা ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় আকস্মিকভাবে তাঁর রক্তচাপ বা প্রেশার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ ও আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত কারিনাকে আর ফেরানো সম্ভব হয়নি।
ডিজিটাল দুনিয়ায় কারিনা কায়সারের পথচলা শুরু হয়েছিল একজন সফল কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সাবলীল ও বাস্তবসম্মত উপস্থাপন শৈলী খুব দ্রুতই তাঁকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুমুল জনপ্রিয় করে তোলে। তবে কেবল কনটেন্ট তৈরিতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি এই প্রতিভাবান তরুণী; সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্ম এবং নাটকের জগতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি একজন দক্ষ চিত্রনাট্যকার হিসেবেও তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। বিশেষ করে ওটিটি দুনিয়ার সমাদৃত কাজ ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’-এ তাঁর কাজ দর্শক ও সমালোচকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। ক্যারিয়ারের এই স্বর্ণালি সময়ে তাঁর এমন আকস্মিক প্রস্থান দেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। কারিনার এই অকাল মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র শোকের রোল পড়েছে। তাঁর সহকর্মী, দেশের নামী নির্মাতা, শিল্পী ও অগুনতি ভক্তরা এই অসামান্য প্রতিভার অকাল বিদায়ে গভীর শোক প্রকাশ করছেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন।