1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. khulnarprotichchobi@gmail.com : khulnarprotichchob :
  3. shobuj.khulna@gmail.com : al masum Shobuj : al masum Shobuj
ইতিহাস ও স্থাপত্যের অনবদ্য মেলবন্ধন: বাগেরহাটের রহস্যময় কোদলা মঠের আদিগন্ত অনুসন্ধান - khulnarprotichchobi
৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| বৃহস্পতিবার| রাত ৩:০৯|
শিরোনামঃ
বড় বোন হারিয়ে হাসতে ভুলে যাওয়া তাহসিনের মুখে আবারও হাসি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ লবণচরায় কেএমপির নিজস্ব থানা উদ্বোধন জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন উপলক্ষে গ্রাফিতি প্রতিযোগিতা অনু‌ষ্ঠিত বটিয়াঘাটা উপজেলা মহিলাদলের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুন আক্তার মনির সুস্থতার কামনা বটিয়াঘাটা উপজেলা মহিলাদলের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুন আক্তার মনি হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা মরহুম শফিউল বারী বাবুর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বিশেষ দোয়া মাহফিল বুধবার শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবু’র ৩ সহযোগী গ্রেপ্তার খুলনা রেলস্টেশনে মার্বেল টাইলসের ওপর ঘুমিয়ে থাকা শিশুর ছবি নাড়া দিল হৃদয় খুলনা মহানগর যুবদলের ৩১ ওয়ার্ড কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

ইতিহাস ও স্থাপত্যের অনবদ্য মেলবন্ধন: বাগেরহাটের রহস্যময় কোদলা মঠের আদিগন্ত অনুসন্ধান

এস, এম আরাফাত আলী
  • Update Time : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
Spread the love

 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বাগেরহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে বহু প্রাচীন স্থাপত্য, যার মধ্যে অনন্য এক বিস্ময় হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে অযোধ্যা বা কোদলা মঠ। স্থাপত্যকলার এক কালজয়ী নিদর্শন হিসেবে পরিচিত এই মঠটি কেবল তার বাহ্যিক রূপেই নয়, বরং এর পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা সুপ্রাচীন লিপি, রাজনৈতিক ইতিহাস এবং প্রকৌশলগত উৎকর্ষের জন্য বোদ্ধা ও সাধারণ দর্শনার্থীদের সমভাবে আকর্ষণ করে আসছে। বারো ভুঁইয়ার অন্যতম প্রতাপশালী শাসক রাজা প্রতাপাদিত্যের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সাক্ষী এই ইমারতটি আঞ্চলিক ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে গভীর ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে।

কোদলা মঠের ঐতিহাসিক ভিত্তি খোঁজার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয় এর গায়ে খোদাই করা প্রাচীন ক্ষণস্থায়ী শিলালিপিকে। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকদের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই লিপিতে থাকা আংশিক পাঠোদ্ধারকৃত সংস্কৃত বয়ান ইঙ্গিত করে যে, সপ্তদশ শতকের শুরুর দিকে তারকা ব্রহ্ম বা শিবের দৈব অনুগ্রহ ও আশিস কামনায় কোনো এক নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ এই সুউচ্চ স্মারকটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে স্থানীয় জনশ্রুতি এবং ইতিহাসের সমান্তরাল ধারা বিশ্লেষণ করলে জানা যায়, রাজা প্রতাপাদিত্য তাঁর পরম শ্রদ্ধেয় গুরু ও অনন্য কাব্য প্রতিভার অধিকারী সভাকবি অবিলম্ব সরস্বতীর অকাল প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত হয়ে তাঁর পবিত্র স্মৃতি ধরে রাখতে এই স্মারক স্তম্ভটি নির্মাণ করান। তাৎক্ষণিকভাবে চমৎকার মুখস্থ কবিতা রচনার অলৌকিক ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত এই পণ্ডিতের সম্মানার্থে নির্মিত এই মঠটি তৎকালীন সমাজের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষকতার এক অনন্য দলিল হিসেবে টিকে রয়েছে।

এই ঐতিহাসিক স্থাপনার সঙ্গে রাজা প্রতাপাদিত্যের শাসনকালের রাজনৈতিক চালচিত্র গভীরভাবে জড়িত। সে যুগে সমগ্র বাগেরহাট অঞ্চল প্রতাপাদিত্যের সুশাসিত সাম্রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিগণিত হতো। ঐতিহাসিক নথিপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নিজের আপন কাকা বসন্ত রায়কে হত্যার পর রাজা প্রতাপাদিত্য সমগ্র অঞ্চলে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেন এবং তাঁর সামরিক ও প্রশাসনিক শাসনব্যবস্থা সুদূর বলেশ্বর নদীর তীর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক নানা জটিলতার মধ্যেও শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল প্রশংসনীয়। তিনি বহু পণ্ডিত ও বিদগ্ধ গুণীজনকে নিয়মিত রাষ্ট্রীয় বৃত্তি প্রদান করতেন, যার অন্যতম প্রমাণ হিসেবে উড়িষ্যার রেখা শৈলীর আদলে গড়া এই সমাধি স্তম্ভটি আজও দক্ষিণবঙ্গের ইতিহাসের এক ক্রান্তিকালীন সময়ের নীরব সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে কোদলা মঠ প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্যবাহী নাগারা রীতির অন্তর্গত এবং এতে ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত ওড়িশা অঞ্চলে প্রচলিত ‘রেখা দেউল’ বা রেখা মন্দির নির্মাণ পদ্ধতির সুস্পষ্ট ও নিখুঁত প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এটি প্রথাগত কোনো দেব-দেবী বা পূজার মন্দির ছিল না, বরং একজন পরম শ্রদ্ধেয় মহাত্মার স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত এক জাঁকজমকপূর্ণ সমাধি স্তম্ভ ছিল। মঠটির বহিরাবরণ অত্যন্ত সুনিপুণ জ্যামিতিক নকশায় সজ্জিত, যেখানে প্রতিটি পার্শ্ব দেয়ালে বহুভুজ আকৃতির ভাঁজ এবং পাঁচটি করে সুদৃশ্য কুলুঙ্গির বিন্যাস লক্ষ্য করা যায়। সম্মুখভাগে রয়েছে আরও sechsটি সমতল রেখা এবং এগারোটি ছোট কুলুঙ্গির দৃষ্টিনন্দন অলংকরণ। নিচ থেকে উপরের দিকে ধাবমান এই চক্রাকার বলয় ও অনুভূমিক রেখাগুলো মঠটিকে দূর থেকে একটি সুউচ্চ পিরামিড বা গগনচুম্বী শিখর চূড়ার মতো এক গম্ভীর ও নান্দনিক রূপ দান করেছে।

একটানা সুউচ্চ গঠন বিশিষ্ট এই মঠটি একটি নিখুঁত বর্গাকার চতুষ্কোণ ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যার মোট উচ্চতা আনুমানিক আঠারো দশমিক দুই-নয় মিটার। অত্যন্ত নিখুঁত ও লাল পালিশ করা চিকন ইটের সাহায্যে তৈরি এই মঠের দেয়ালগুলো প্রায় তিন দশমিক এক-সাত মিটার পুরু, যা এর দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করেছে। মঠের অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য পূর্ব, পশ্চিম এবং দক্ষিণ দিকে তিনটি প্রবেশপথ থাকলেও দক্ষিণ দিকের তোরণটিই এর মূল প্রবেশদ্বার হিসেবে চিহ্নিত এবং এর উপরেই সেই ঐতিহাসিক আদি বাংলা অক্ষরের লিপিটি উৎকীর্ণ রয়েছে। মঠের ভেতরের প্রকোষ্ঠটির ছাদ প্রায় বারো থেকে তেরো ফুট উচ্চতা পর্যন্ত একটি শূন্য গম্বুজাকৃতির ফাঁকা অবয়ব তৈরি করে ক্রমশ উপরে মিশে গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই মূল কাঠামোর উপরের অংশটি সম্পূর্ণ ফাঁপা ও বায়ুশূন্য অবস্থায় রয়েছে, যা প্রাচীন বাংলার রাজকীয় রাজমিস্ত্রিদের উন্নত ও দূরদর্শী স্থাপত্য প্রকৌশলের এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025