
ভোলার চরফ্যাশনের বেতুয়া নদীবন্দরে টার্মিনাল ভবন ও গাছিরখাল লঞ্চঘাটের উদ্বোধন করেছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় তিনি চরফ্যাশনের বেতুয়ায় মেঘনা নদীর তীরে নির্মিত আধুনিক এই টার্মিনালের উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন —
> “ঢাকার সঙ্গে চরফ্যাশনের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। এখানকার মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বেতুয়া নদীবন্দর টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এমন মানসম্মত টার্মিনাল ভবন বাংলাদেশের অন্য কোথাও আমার চোখে পড়েনি। টার্মিনালটি আপনাদের — এটিকে সুন্দর রাখা আপনাদের দায়িত্ব।”
উপদেষ্টা আরও বলেন,
> “এই অঞ্চলের ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার পুনরায় চালু করেছি। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, এই প্যাডেল স্টিমার ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলবে, তবে সপ্তাহে এক দিন ঢাকা-ভোলা রুটে চলবে।”
তিনি বলেন, “আমাদের দেশে অসংখ্য নদী রয়েছে, যেগুলো আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ এবং ঐতিহ্যের বাহক। এই নদীগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হবে। ভোলার প্রায় ১৭ লাখ মানুষ এই নতুন টার্মিনালের সুবিধা ভোগ করবে।”
ইলিশসম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন,
> “একসময় পদ্মায় ইলিশ ধরা পড়ত, এখন তা চাঁদপুর হয়ে ভোলায় আসে। বর্তমানে ভোলার ইলিশই সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। আমরা যদি এই প্রক্রিয়াকে সমান্তরালভাবে চালিয়ে যেতে পারি, তাহলে হাজার হাজার জেলে আরও স্বচ্ছলভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য প্রান্তিক জনগণের স্বার্থে কাজ করা, এবং আমরা সেটিই করে যাচ্ছি।”
অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথি বক্তব্য রাখেন।
পরে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ ইউনিয়নের গাছিরখাল লঞ্চঘাটে নবনির্মিত পন্টুনের উদ্বোধন করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হিসেবে নৌপথে মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সহজতর করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় দেশের দুর্গম অঞ্চলে নৌযোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আজ ভোলার চরফ্যাশনে বেতুয়া নদী বন্দর টার্মিনাল এবং গাছিরখাল লঞ্চঘাট উদ্বোধন করা হলো।
এছাড়া শতবর্ষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ও নৌপর্যটন খাতের উন্নয়নে “পিএস মহসুদ” নামে ঐতিহাসিক প্যাডেল স্টিমারটি পুনরায় ঢাকা-বরিশাল রুটে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।