
মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ প্রতিযোগী মিথিলা এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন করে আলোচনায়—কারণ তাঁর ন্যাশনাল কস্টিউম “দ্য কুইন অব বেঙ্গল”, যা পরিপূর্ণভাবে নির্মিত বাংলাদেশের গর্ব জামদানি শাড়ি দিয়ে।
বাংলার শত বছরের ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে বেছে নেওয়া হয়েছে এক রাজসিক জামদানি, যা একসময় মুঘল সম্রাট, নবাব এবং বাংলার অভিজাতদের পোশাক ছিল। সূক্ষ্ম নকশার এই শাড়িটিকে বর্ণনা করা যায়—শিল্প, ঐতিহ্য ও রাজকীয়তার বোনা সোনালি স্মারক হিসেবে।
নরসিংদীর শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের তাঁত শালা থেকে উঠে আসা এই জামদানি সম্পূর্ণ হাতে তৈরি। সেরা মানের তুলো ধাগায় বোনা এবং সোনালি জরির সূক্ষ্ম নকশায় সজ্জিত এই শাড়িটি করতে লেগেছে প্রায় ১২০ দিন।
এই বিশেষ শাড়িটির ডিজাইনার আফরিনা সাদিয়া সৈয়দা।
শাড়িটিতে ব্যবহৃত সূক্ষ্ম শাপলা ফুলের নকশা—যা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল এবং পবিত্রতা, শান্তি ও দৃঢ়তার প্রতীক—পুরো লুকে এনে দিয়েছে দেশাত্মবোধের গভীর প্রকাশ।
একই শাপলা মোটিফ মিথিলার সোনার অলংকারেও ব্যবহার করা হয়েছে, যা তৈরি করেছেন লরা খান (6 YARDS STORY)।
আলোকোজ্জ্বল উপস্থাপনায় ‘কুইন অব বেঙ্গল’
রনির ফটোগ্রাফি ও মেকআপ আর্টিস্ট এম.কে. হোসেনের নিখুঁত সাজে মিথিলা যখন এই জামদানিতে মঞ্চে দাঁড়ান, তখন তিনি শুধু একজন প্রতিযোগী নয়—
তিনি হয়ে ওঠেন বাংলার ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক।
গোল্ডেন বুননে ঝলমল করা জামদানির প্রতিটি পদক্ষেপে ফুটে উঠেছে—বাংলাদেশের সংস্কৃতি, নারীর শক্তি এবং বাঙালির অনন্য পরিচয়।
মিথিলার এই উপস্থাপনা নিঃসন্দেহে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গৌরবকে আরও উজ্জ্বল করেছে।