
দেশের প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রাণিকুলকে স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। গত রবিবার পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেন। উপদেষ্টা বলেন, কেবল আধুনিক পোল্ট্রি শিল্পের ওপর নির্ভরশীল না থেকে আমাদের দেশীয় পশু ও মুরগির জাতগুলোকে পরম মমতায় টিকিয়ে রাখতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে প্রাণীদের অভিযোজন ক্ষমতা পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন নতুন গবেষণা পরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত ‘পার্বত্য অঞ্চলের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন গবেষণা পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই কর্মশালায় উপদেষ্টা দেশের পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, মুরগির বাচ্চা ও ফিডের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ খামারিরা উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে খামারিরা যেমন ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, তেমনি ডিমের দাম কমে গেলে তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। এই সংকট নিরসনে ফিড আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয়ভাবে ভুট্টা ও সয়াবিন চাষ বাড়ানোর জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়নে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ফরিদা আখতার জানান, শিক্ষিত ও উদ্যমী তরুণদের এই খাতে সম্পৃক্ত করতে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পশুর রোগবালাই প্রতিরোধে সময়মতো ভ্যাকসিনেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি কেবল পশুর জীবন রক্ষা নয় বরং মানবস্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্যও অপরিহার্য। সময়মতো প্রতিষেধক নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রামক ব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর এবং বান্দরবান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুলহাস আহমেদ। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালার আগে উপদেষ্টা বিএলআরআই-এর আঞ্চলিক কেন্দ্রে খামারিদের একটি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং গবেষণার উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রাণীর শেড পরিদর্শন করে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।