
রক্তের সম্পর্কের চেয়েও যখন কুপ্ররোচনা বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন সমাজ পায় এক মর্মান্তিক দৃশ্যপট। খুলনায় পিতৃত্বের মহিমা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে নিজের দুই কন্যা সন্তানকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন এক বাবা। অভিযোগ উঠেছে, দ্বিতীয় স্ত্রীর মন জোগাতে গিয়ে নিজের কলিজার টুকরো সন্তানদের প্রতি এই চরম অমানবিক আচরণ করেছেন তিনি। বর্তমানে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে বড় বোন রাস্তার মোড়ে মোড়ে পানির বোতল বিক্রি করে ছোট বোনের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছেন। সমাজের মানুষের চোখে এই ঘটনা কেবল নিষ্ঠুরতাই নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ঘটনার গভীরে গিয়ে জানা যায়, বেশ কিছুদিন আগে ওই ব্যক্তি দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই পরিবারে অশান্তির দানা বাঁধতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, সৎ মা ঘরে আসার পর থেকেই দুই মেয়ের ওপর নেমে আসে অকথ্য মানসিক নির্যাতন। বাবার আশ্রয় ও প্রশ্রয় না পেয়ে মেয়েরা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সৎ মায়ের চাপের মুখে পড়ে নিজ সন্তানদের প্রতি মমতা হারিয়ে ফেলেন বাবা এবং অত্যন্ত নির্দয়ভাবে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। এই দুই বোনের মধ্যে বড়জন প্রাপ্তবয়স্ক হলেও ছোট বোনটি এখনো কৈশোর পার করেনি। এমন অবস্থায় কোনো আশ্রয় না পেয়ে বড় বোনটি ছোট বোনকে আগলে রাখতে জীবনযুদ্ধে নেমে পড়েছেন এবং রাস্তার পাশে পানির বোতল বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।
এই অমানবিক ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, একজন বাবা হয়ে কীভাবে নিজের সন্তানদের এভাবে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে পারেন তা ভাবলে অবাক হতে হয়। পাড়া-প্রতিবেশীদের অনেকেই একে ‘বাবার নামের কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, যেখানে নেটিজেনরা এই অসহায় দুই বোনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিত্তবানদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে একজন বাবার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অপরাধমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অসহায় দুই বোনের জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ স্থায়ী আবাসন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। সেই সঙ্গে পারিবারিক সুরক্ষা আইনে অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে হয়তো এই দুই বোন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে এবং অপরাধীরা তাদের প্রাপ্য শাস্তি পাবে।