
দীর্ঘ ২১ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকে সাথে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে পা রাখলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামে পৌঁছান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার অংশ হিসেবে সিলেটে পা রাখা এই শীর্ষ নেতার আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর জামাতার আগমনে শ্বশুরবাড়িতে আয়োজন করা হয়েছিল রাজকীয় আপ্যায়নের। আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত ও দোয়া শেষে তারেক রহমান সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন। এই মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে ১২ হাজার মানুষের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী আখনির, যা প্রায় ৪০টি বিশাল হাঁড়িতে রান্না করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান ও ডা. জোবায়দা রহমান বুধবার রাত ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সপরিবারে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি বাসে করে পুণ্যভূমি সিলেটের অন্যতম প্রধান দুই আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত সম্পন্ন করে তিনি দক্ষিণ সুরমার বিরাহিমপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রিয় নেতার নিজ জেলা ও শ্বশুরবাড়িতে উপস্থিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম ধাপ হিসেবে সিলেটকে বেছে নেওয়া তারেক রহমানের রাজনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন তিনি, যেখানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘ সময় পর সশরীরে নির্বাচনী জনসভায় তার উপস্থিতিকে ঘিরে সিলেটজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মাজার জিয়ারত ও পারিবারিক আবহে সময় কাটানোর পর তারেক রহমানের এই নির্বাচনী সফরকে ঘিরেই এখন জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ নজর রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্বেচ্ছানির্বাসন শেষে দেশে ফিরে তারেক রহমানের এই সফর কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিরাহিমপুরের সিলাম ইউনিয়নে তার আগমনে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচনী মাঠে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের কবর জিয়ারত এবং ডা. জোবায়দা রহমানের পৈত্রিক ভিটায় কাটানো সময়গুলো আবেগঘন এক পরিবেশের সৃষ্টি করে। এখন সবার দৃষ্টি বৃহস্পতিবারের জনসভার দিকে, যেখান থেকে তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক বার্তা দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেবেন।