
বঙ্গোপসাগরের উত্তাল তরঙ্গে ইঞ্জিন বিকল হয়ে দিশেহারা অবস্থায় ভাসতে থাকা ৪ জেলের জীবন বাঁচালো জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’। গত ২১ জানুয়ারি সেন্ট মার্টিন থেকে একটি ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন ইদ্রিসসহ ৪ জন জেলে। ছেঁড়াদ্বীপ অতিক্রম করার কিছু সময় পরেই আকস্মিকভাবে তাদের নৌকার ইঞ্জিন অকেজো হয়ে পড়ে। মাঝসমুদ্রে অসহায় হয়ে পড়া জেলেরা দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা ধরে স্রোত আর ঢেউয়ের তোড়ে ভাসতে থাকেন। ঘন কুয়াশার কারণে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ায় তারা নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারছিলেন না। এই দীর্ঘ সময়ে সাগরে বেশ কয়েকটি ট্রলারের দেখা মিললেও জেলের আর্তচিৎকারে কেউ সাড়া দেয়নি, ফলে এক পর্যায়ে চরম অনিশ্চয়তা ও প্রাণভয়ে তারা ভেঙে পড়েন।
অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে জেলে ইদ্রিস কোনোক্রমে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে তাদের জীবন বাঁচানোর আকুতি জানান। কলটি গ্রহণ করেন কনস্টেবল নাঈম ইসলাম, যিনি তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করে উদ্ধার তৎপরতার পথ সুগম করেন। পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়াটি কোস্টগার্ডের সাথে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করেন ৯৯৯ ডিসপাচার এসআই সাব্বির আহমেদ নিক্সন। ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পাওয়ামাত্রই কোস্টগার্ডের কন্ট্রোল রুম ও সেন্ট মার্টিন কোস্টগার্ড স্টেশন দ্রুত উদ্ধারকারী দল পাঠিয়ে সাগরে তল্লাশি শুরু করে। জেলের দেওয়া অস্পষ্ট অবস্থানের সূত্র ধরে এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সমন্বয়ে তাদের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে উদ্ধারকারীরা।
অভিযানের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে ছেঁড়াদ্বীপ থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রের বাদরপাথর নামক এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় ৪ জেলেকে অক্ষত উদ্ধার করতে সক্ষম হয় সেন্ট মার্টিন কোস্টগার্ড। উদ্ধারকৃতদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেন্ট মার্টিন কোস্টগার্ডের পেটি-অফিসার মোস্তাফিজ মামুন ৯৯৯ কর্তৃপক্ষকে উদ্ধার অভিযানের সফল সমাপ্তি নিশ্চিত করেছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার আর জরুরি সেবার দ্রুত পদক্ষেপে একটি সম্ভাব্য বড় ট্র্যাজেডি থেকে রক্ষা পেলেন এই ৪ শ্রমজীবী মানুষ।