
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের একদল অনুসারী দুদক কার্যালয়ে জড়ো হয়ে এই ‘মব’ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল সাকিবের পক্ষে স্লোগান দিতে দিতে হঠাৎ কার্যালয়ে প্রবেশ করে এবং আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। এই আকস্মিক হট্টগোলের কারণে দুদকের স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে এবং একপর্যায়ে অনেকটা বাধ্য হয়েই সংশ্লিষ্ট বিভাগ অভিযোগটি গ্রহণ করে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেনামে দাখিল করা এই অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কমিশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, কোনো অভিযোগ জমা পড়লেই তা সরাসরি তদন্ত বা মামলার পর্যায়ে চলে যায় না। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, প্রতিটি অভিযোগ নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত বা সত্যতা না পাওয়া যায়, তবে নিয়মানুযায়ী অভিযোগটি বাতিল করা হবে। শুধুমাত্র প্রাথমিক সত্যতা মিললেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ থাকে। বর্তমানে বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রশ্ন তোলেন যে, সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে দুর্নীতির সম্পর্ক কোথায়। তিনি স্পষ্ট জানান, এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে তিনি আইনি পথে লড়াই করবেন। মূলত মাঠের ক্রিকেটে সাকিবের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করেই তার ভক্তদের এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ নেটিজেনদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, ব্যক্তিগত আবেগ বা ভক্তকুলের ক্ষোভ প্রকাশের জন্য দুদকের মতো একটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং অনভিপ্রেত। অন্যদিকে সাকিবের একনিষ্ঠ ভক্তরা বিষয়টিকে তাদের দাবির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থায় দলবদ্ধভাবে প্রবেশ করে কর্মকর্তাদের বাধ্য করার এই সংস্কৃতি দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।