
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সাধারণ মানুষের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিতে এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে টানা সাত দিনের অবকাশ যাপনের সুযোগ পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। গত ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই বর্ধিত ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, পূর্বনির্ধারিত ছুটির তালিকায় নতুন করে ১৮ মার্চ তারিখটিকেও সাধারণ ছুটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকারের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত যেমন সহজতর হবে, তেমনি ঈদের আমেজও দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পঞ্জিকা ও চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবারের ঈদুল ফিতর আগামী ২০ বা ২১ মার্চ উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের ছুটি নির্ধারিত ছিল। তবে এই তালিকার ঠিক আগেই ১৭ মার্চ পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ছুটি থাকায় মাঝে ১৮ মার্চ তারিখটি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। মন্ত্রিসভার নতুন অনুমোদনের ফলে এখন ১৮ মার্চও অতিরিক্ত ছুটি হিসেবে যুক্ত হলো। এর ফলে শবে কদরের ছুটি থেকে শুরু করে ঈদের শেষ দিন পর্যন্ত টানা সাত দিন দেশব্যাপী সরকারি সাধারণ ছুটি কার্যকর থাকবে। এই দীর্ঘ ছুটির ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর থেকে যারা গ্রামে প্রিয়জনদের কাছে ফিরবেন, তারা যানজটমুক্ত ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ এই ছুটির ফলে নাগরিকরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন। বিশেষ করে যারা দূর-দূরান্তে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এই সাত দিনের ছুটি বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাগরিকদের উৎসবের প্রস্তুতি ও যাতায়াত ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের ঈদ উদযাপনে এই দীর্ঘ অবকাশ দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন ও সামাজিক মেলবন্ধনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।