
দেশে চলমান জ্বালানি তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং অসাধু চক্রের কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা রুখতে কঠোরতম অবস্থানে গিয়েছে সরকার। অবৈধভাবে তেল মজুতকারী ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রদানকারীর জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের সাম্প্রতিক এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, জ্বালানি খাতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা—সবার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক সরাসরি এই পুরস্কারের অর্থ প্রদান নিশ্চিত করবেন।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে অনিয়ম তদারকিতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে বিশেষ ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই কর্মকর্তারা সরাসরি পাম্পগুলোর জ্বালানি মজুত ও বিক্রয় প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন, যাতে কোনো পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল থাকা সত্ত্বেও ‘নেই’ বলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে। এছাড়া তদারকি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি আগের চেয়ে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুরো দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মনিটরিং করার জন্য প্রতিটি জেলায় উচ্চপর্যায়ের ‘ভিজিলেন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। এই টিমের সদস্যদের সাথে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে সুনির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ সরাসরি জানানো যাবে। একই সাথে জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং তেলের প্রধান ডিপোগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৌশলগতভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পাচার বা অবৈধ উপায়ে তেল সরিয়ে ফেলার যেকোনো চেষ্টা রুখতে সীমান্ত এলাকা ও তেলের ডিপোগুলোতে বিজিবি সদস্যরা সজাগ অবস্থানে রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের মূল্য বৃদ্ধির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কেবল জরিমানা নয়, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপ এবং পুরস্কারের ঘোষণা মূলত মজুতদারদের প্রতি একটি কড়া বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের প্রত্যাশা, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির মাধ্যমে খুব দ্রুতই দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।