
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের ছররা বন্দুকের গুলিতে সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত সালেহ আহমেদ উপজেলার দয়ারবাজার সংলগ্ন কারবালার টুক গ্রামের বাসিন্দা। সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক গত শুক্রবার ১০ এপ্রিল দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বিজিবি জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে সালেহ আহমেদ তাঁর দুই সহযোগীকে নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। তাঁরা ভারতের চংকেট ও মারকান এলাকার মধ্যবর্তী একটি সুপারি বাগানে অবস্থান করার সময় স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন তাঁদের উপস্থিতি টের পায়। এ সময় চোর সন্দেহে খাসিয়ারা তাঁদের লক্ষ্য করে ছররা বন্দুক দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই সালেহ আহমেদের মৃত্যু হয়।
ঘটনার সময় নিহতের সঙ্গে থাকা নাজিরগাঁও গ্রামের মো. সুমন মিয়া ও কারবালার টুক গ্রামের মো. মাসুম আহম্মদ অক্ষত অবস্থায় সালেহ আহমেদের মরদেহটি বাংলাদেশে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন সীমান্ত এলাকায় জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। একই সাথে সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ওপার না যাওয়ার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে বিজিবির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।