
বৃহস্পতিবার দেশের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরে পরিণত হয়েছে খুলনা। আন্তর্জাতিক বায়ুমান সূচক (AQI) অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর খুলনার বায়ুর মান ২২৯ রেকর্ড করা হয়েছে — যা রাজধানী ঢাকাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এ মান মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য “অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ” বলে বিবেচিত।
আইকিউএয়ার-এর খুলনা রূপসা মোড়ে স্থাপিত মনিটরিং সিস্টেম অনুযায়ী, দুপুরের দিকে গড় বায়ুমান সূচক (AQI) ছিলো ১৮৮, আর সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ঘণ্টাপ্রতি গড় AQI রেকর্ড হয় ২৪৭ — যা খুলনায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপসার এয়ার কোয়ালিটি মনিটর দিয়ে পুরো শহরের পরিস্থিতি নির্ণয় করা না গেলেও, দূষণের মাত্রা সামগ্রিকভাবে উদ্বেগজনক। কারণ এই দূষণের একটি বড় অংশ স্থানীয় নয় — বরং সীমান্তবর্তী দেশ থেকে আগত ধোঁয়া ও ধূলিকণার প্রভাবেও খুলনার আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে।
খুলনা মহানগরীতে শুকনো মৌসুমে বায়ুদূষণ নতুন কিছু নয়। তবে এবার শহরে স্থায়ীভাবে একটি বায়ুমান মনিটর স্থাপনের ফলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসছে।
সম্ভাব্য সমাধান ও করণীয়
🔹 বেশি সেন্সর স্থাপন প্রয়োজন:
বর্তমানে খুলনায় কেবল একটি সক্রিয় এয়ার কোয়ালিটি মনিটর রয়েছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় (সোনাডাঙ্গা, দৌলতপুর, খালিশপুর, গল্লামারী) আরও কয়েকটি মনিটর বসানো গেলে সঠিক পরিস্থিতি বোঝা যাবে।
🔹 রাস্তার ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ:
নগরীতে পানি ছিটানো, রাস্তা সংস্কারকাজে নিয়ন্ত্রিত ধুলা ব্যবস্থাপনা, এবং খোলা ট্রাকে মাটি/বালি পরিবহন বন্ধ করা প্রয়োজন।
🔹 ইটভাটা ও শিল্প এলাকা নজরদারি:
খুলনার আশপাশের ইটভাটা ও শিল্প এলাকার নির্গমন নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
🔹 সবুজায়ন বৃদ্ধি:
রাস্তার ধারে ও খালি জমিতে গাছ লাগিয়ে নগরীতে সবুজের পরিমাণ বাড়ানো দূষণ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
🔹 জনসচেতনতা বৃদ্ধি:
সাধারণ মানুষকে মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিত করা, যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ফিটনেস চেক, এবং গণমাধ্যমের প্রচারণা দরকার।
📊 তথ্যসূত্র:
• IQAir (Real-time Air Quality Index)
• খুলনা রূপসা এয়ার কোয়ালিটি মনিটর
• পরিবেশ অধিদপ্তর, খুলনা