1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. khulnarprotichchobi@gmail.com : khulnarprotichchob :
  3. shobuj.khulna@gmail.com : al masum Shobuj : al masum Shobuj
১৮০ দিনে সবুজ হবে রূপসা পাড়: খুলনায় ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের মেগা পরিকল্পনা কেসিসির - khulnarprotichchobi
১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| সোমবার| বিকাল ৫:৪৩|
শিরোনামঃ
পূর্ব শত্রুতার জেরে কলাগাছ কেটে সাবাড় তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি: রকিবুল ইসলাম বকুল দিঘলিয়ায় শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কুরবানীর পশুর হাট, চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সঙ্গে এম এ সালামের শুভেচ্ছা বিনিময় বটিয়াঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইপিআই কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ, মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে কৈফিয়ত তলব দিঘলিয়ার চার ইউনিয়নে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত পকেটেই লুকিয়ে আছে গুপ্তচর: আপনার স্মার্টফোনের ক্যামেরা গোপনে চালু হচ্ছে না তো? ভুলবশত পোস্ট হওয়া ফেসবুক স্টোরি নিয়ে বিব্রত? জেনে নিন দ্রুত ছবি বা ভিডিও মুছে ফেলার সহজ কৌশল মরণঘাতী জাপানিজ এনসেফালাইটিসের হানা: বাংলাদেশে কি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা? সাধারণ জন্ডিস যখন ডেকে আনে চরম বিপদ: কখন হতে পারে প্রাণঘাতী লিভার ফেইলিউর

১৮০ দিনে সবুজ হবে রূপসা পাড়: খুলনায় ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের মেগা পরিকল্পনা কেসিসির

এস, এম আরাফাত আলী
  • Update Time : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
Spread the love

 

শিল্প ও বন্দরনগরী খুলনাকে একটি পরিবেশবান্ধব, দৃষ্টিনন্দন ও সবুজ নগরীতে রূপান্তর করার লক্ষ্যে এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং নগরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের এক উচ্চাভিলাষী কিন্তু সময়োপযোগী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। এই বৃহৎ সবুজায়ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার সকালে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় সরকারের কেন্দ্রীয় দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গৃহীত নানামুখী এজেন্ডা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মূলত দেশব্যাপী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তারই স্থানীয় রূপরেখা বাস্তবায়নে কেসিসির রাজস্ব বিভাগ বিশেষ এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে নগরীতে কার্যরত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রথম সারির দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সমন্বয় সভার মূল বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সবুজায়নের এই আন্দোলনকে কেবল দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সামাজিক গণআন্দোলনে রূপ দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, নগরীর পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে কেসিসির মালিকানাধীন উম্মুক্ত স্থান, প্রধান সড়কসমূহের বিভাজক, বিভিন্ন খালের দুই পাড়সহ শহরের আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা পতিত জমিতে পরিকল্পিত বনায়ন করা হবে। এই মহতী উদ্যোগকে সফল করতে তিনি সরকারি ও বেসরকারি সকল সংস্থাকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার আহ্বান জানান। বনায়ন ও বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি মশার প্রজনন হ্রাসে এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নগরবাসীকে আরও সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান। চারা রোপণের পর বা পানি দেওয়ার সময় কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে কঠোর নজর রাখার জন্য তিনি নাগরিকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোন এলাকায় ঠিক কী ধরনের গাছ রোপণ করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক হবে, সে বিষয়ে বন বিভাগের কাছ থেকে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং আপামর জনসাধারণকে এই কর্মযজ্ঞে সম্পৃক্ত করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এর অংশ হিসেবে জনসচেতনতা বাড়াতে নগরীর প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রবেশমুখে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধকরণ সম্বলিত প্যানা, ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত হয়। একই সাথে আসন্ন আঞ্চলিক বৃক্ষমেলাকে আরও বর্ণাঢ্য ও আকর্ষণীয়ভাবে আয়োজনের জন্য বন বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়। কর্মসূচির পরিধি বাড়াতে শহরের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, ক্লিনিক, হাসপাতাল ও সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়ের উম্মুক্ত চত্বরে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেসব সংস্থার নিজস্ব জায়গা নেই, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে তাদেরকে অন্যান্য উম্মুক্ত স্থানে রোপণের জন্য গাছের চারা অনুদান হিসেবে প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।

গুরুত্বপূর্ণ এই সমন্বয় সভায় কেসিসির প্রশাসনিক ও প্রকৌশল বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যাংকিং ও সামাজিক খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন কেসিসির সচিব মোঃ রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ এবং সম্পত্তি কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন। এছাড়া ব্যাংকিং খাতের প্রতিনিধি হিসেবে জনতা ব্যাংক কর্পোরেট শাখার ডিজিএম মোঃ মেহেদী হাসান, কমিউনিটি ব্যাংকের এসএভিপি মোঃ রোকনুজ্জামান, বেসিক ব্যাংকের প্রিন্সিপ্যাল অফিসার আবু সাঈদের পাশাপাশি ডাচ-বাংলা, ব্র্যাক, মিডল্যান্ড, ঢাকা, মেঘনা, ওয়ান, প্রাইম, সাউথইস্ট, আল-আরাফাহ ও ব্যাংক এশিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সুশীল সমাজ ও এনজিও সেক্টর থেকে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ফোরামের মহাসচিব এস এম ইকবাল হাসান তুহিন, নিরালা জনকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সবুর এবং রূপান্তর, ব্র্যাক, প্রদীপন, রূপায়ন, সুশীলন, নবলোক, সিয়াম, অ্যাওসেড, ফেয়ার ফাউন্ডেশন ও মানবসেবা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ। উপস্থিত সকল প্রতিনিধি এই সবুজায়ন প্রকল্পকে সফল করতে এবং খুলনাকে একটি আদর্শ গ্রিন সিটিতে রূপান্তর করতে কেসিসির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025