1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. khulnarprotichchobi@gmail.com : khulnarprotichchob :
  3. shobuj.khulna@gmail.com : al masum Shobuj : al masum Shobuj
সুন্দরবনের গহীনে রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধ: করিম শরীফ বাহিনীর ৩ দস্যু অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার, অক্ষত উদ্ধার ৪ জিম্মি জেলে - khulnarprotichchobi
১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| সোমবার| বিকাল ৫:৪২|
শিরোনামঃ
পূর্ব শত্রুতার জেরে কলাগাছ কেটে সাবাড় তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি: রকিবুল ইসলাম বকুল দিঘলিয়ায় শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কুরবানীর পশুর হাট, চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সঙ্গে এম এ সালামের শুভেচ্ছা বিনিময় বটিয়াঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইপিআই কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ, মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে কৈফিয়ত তলব দিঘলিয়ার চার ইউনিয়নে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত পকেটেই লুকিয়ে আছে গুপ্তচর: আপনার স্মার্টফোনের ক্যামেরা গোপনে চালু হচ্ছে না তো? ভুলবশত পোস্ট হওয়া ফেসবুক স্টোরি নিয়ে বিব্রত? জেনে নিন দ্রুত ছবি বা ভিডিও মুছে ফেলার সহজ কৌশল মরণঘাতী জাপানিজ এনসেফালাইটিসের হানা: বাংলাদেশে কি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা? সাধারণ জন্ডিস যখন ডেকে আনে চরম বিপদ: কখন হতে পারে প্রাণঘাতী লিভার ফেইলিউর

সুন্দরবনের গহীনে রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধ: করিম শরীফ বাহিনীর ৩ দস্যু অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার, অক্ষত উদ্ধার ৪ জিম্মি জেলে

এস, এম আরাফাত আলী
  • Update Time : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
Spread the love

 

বিশ্ব ঐতিহ্য এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফুসফুসখ্যাত সুন্দরবনের গহীন অরণ্যকে জলদস্যু ও বনদস্যুদের হাত থেকে চিরতরে মুক্ত করতে আরও একটি অভাবনীয় ও সফল অপারেশন পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খালী খাল সংলগ্ন দুর্গম ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ কমান্ডো দলের সাথে বনের কুখ্যাত ও দুর্ধর্ষ ‘করিম শরীফ বাহিনী’র মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতের অন্ধকারে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই শ্বাসরুদ্ধকর ও জীবনবাজি রাখা অভিযানের পর কোস্ট গার্ড বাহিনী ৩ জন সক্রিয় ও সশস্ত্র বনদস্যুকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এই অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, দস্যুদের তৈরি গোপন আস্তানা থেকে মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকা ৪ জন সাধারণ জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা কার্তুজ ও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত ওয়াকিটকি সেট। গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই বীরত্বপূর্ণ অভিযানের বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে ও মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ১৩ মে বুধবার রাতে কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ টিম নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবে শ্যালা নদী এলাকায় মোতায়েন ছিল। গভীর রাতে নির্ভরযোগ্য ও গোপন সূত্রে কোস্ট গার্ডের কাছে একটি অতি জরুরি খবর আসে যে, বনের মরা চানমিয়া খালী খালের গভীর অরণ্যের ভেতরে করিম শরীফ বাহিনীর একদল ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত দস্যু আস্তানা গেড়েছে। তারা সেখানে মূলত সুন্দরবনে বৈধ পাস-পারমিট নিয়ে মাছ ধরতে আসা সাধারণ জেলেদের ওপর বড় ধরনের ডাকাতি এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের এক নীল নকশা বা ছক কষছিল। এই সুনির্দিষ্ট ও সংবেদনশীল তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ডের বিশেষ কমান্ডো দল বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ না করে দ্রুত গতিসম্পন্ন ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে ওই দুর্গম খালের মুখে কৌশলগত অবস্থান নেয় এবং রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বনের ভেতরে অগ্রসর হতে থাকে।

অভিযান পরিচালনাকারী কোস্ট গার্ডের জোয়ানেরা যখন মরা চানমিয়া খালী খালের একেবারে শেষ প্রান্তে গভীর অরণ্যের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন জঙ্গল, শ্বাসমূল ও কেওড়া গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বনদস্যুরা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকস্মিকভাবে দস্যুরা কোস্ট গার্ডের বোট ও জোয়ানদের লক্ষ্য করে চারদিক থেকে এলোপাতাড়ি ও ভারী গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে বনের চিরচেনা শান্ত পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে এক ভয়াবহ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আকস্মিক এই আক্রমণ সামলে নিয়ে এবং নিজেদের জীবন ও সরকারি জানমাল রক্ষার্থে কোস্ট গার্ডের চৌকস সদস্যরাও তৎক্ষণাৎ পজিশন নিয়ে পাল্টা নিখুঁত গুলি চালানো শুরু করে। গভীর রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে সুন্দরবনের গহীনে উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় এক তীব্র ও ত্রিমুখী বন্দুকযুদ্ধ। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই তীব্র গোলাগুলি ও কোস্ট গার্ডের সুনিপুণ রণকৌশল, নিখুঁত নিশানা এবং সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে একপর্যায়ে টিকতে না পেরে বনদস্যুরা পরাস্ত হয়। তারা বনের আরও গভীরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং রণে ভঙ্গ দিয়ে পিছু হটে।

দস্যুদের পালানোর চেষ্টাকালে কোস্ট গার্ডের জোয়ানেরা বনের ধারালো ও বিপজ্জনক শ্বাসমূল (নিউমেটোফোর) এবং কর্দমাক্ত দুর্গম পথ পেরিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধাওয়া করে করিম শরীফ বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্যকে জাপটে ধরে আটক করতে সক্ষম হন। তবে বাকি দস্যুরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বনের আরও গভীরে মিলিয়ে যায়। আটককৃতরা হলো- মোঃ মেহেদী হাসান (২৫), মোঃ রমজান শরীফ (১৯) এবং মোঃ এনায়েত মিয়া (২৫), যাদের বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ও ভাঙ্গার ফরিদপুরে বলে জানা গেছে। এরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে জলদস্যুতা এবং জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের পেশায় লিপ্ত ছিল। বন্দুকযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই কোস্ট গার্ডের দল স্থানীয় বন বিভাগের বিশেষ সহযোগিতায় বনদস্যুদের আস্তানা ও আশেপাশের কর্দমাক্ত এলাকায় একটি ব্যাপক চিরুনি তল্লাশি অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ৩টি আধুনিক একনলা বন্দুক, ১টি সচল পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা বন্দুকের গুলি, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা বা ছররা গুলি, ২টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াকিটকি সেট এবং ৪টি ওয়াকিটকি চার্জার। যৌথ তল্লাশির একপর্যায়ে বনের গভীর ঝোপের ভেতর হাত-পা বাঁধা এবং দস্যুদের কঠোর পাহারায় থাকা ৪ জন সাধারণ জেলেকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, যাদের কয়েকদিন আগে অপহরণ করা হয়েছিল এবং যাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল দস্যুরা।

আইনি প্রক্রিয়া ও সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ জানিয়েছেন, আটককৃত এই ৩ দুর্ধর্ষ বনদস্যুর বিরুদ্ধে সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশ, সরকারি কাজে বাধা দান, কোস্ট গার্ডের ওপর গুলিবর্ষণ, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে কয়েকটি পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকিসহ আটককৃত দস্যুদের সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হবে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে এবং নিরীহ জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের নির্ভয়ে জীবিকা অর্জনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের এই বিশেষ যৌথ চিরুনি অভিযান সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে এখনও পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে।

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025